শিরোনাম
◈ ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য: প্রধানমন্ত্রী ◈ চীনের সঙ্গে সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির পথে ইরান ◈ রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ◈ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পেতে বেআইনি লেনদেন নিয়ে কঠোর বার্তা ◈ মুক্তিপণ দাবির পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নিরাপদে ফিরল স্কুল শিক্ষার্থী আফফান ◈ ৫০ বছর ধরে মসজিদে নববীতে কোরআন পড়ানো শিক্ষকের ইন্তেকাল ◈ ব্যাংকিং খাতে ঋণ জালিয়াতিতে কমেছে বিনিয়োগ পরিবেশ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা ◈ ঈদের আগে বেতন দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ঋণ চায় বিজিএমইএ  ◈ সিডনিতে নারী ফুটবলার‌দের প্রশিক্ষ‌ণে ত্রু‌টি খুঁজে পাচ্ছেন না ‌কোচ পিটার বাটলার  ◈ মন্ত্রিপরিষদ শপথ অনুষ্ঠানে কী হয়েছিল? জানালেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:৪৯ বিকাল
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঈদের আগে বেতন দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ঋণ চায় বিজিএমইএ 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তৈরি পোশাক খাতে তীব্র তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিতে সহজ শর্তে ঋণ চায় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। মজুরি সহায়তা হিসেবে দুই মাসের বেতন-ভাতার সমপরিমাণ অর্থ ঋণ দেওয়ার জন্য সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ঋণ পরিশোধে ১২ মাসের সময়ও চাই সংগঠনটি। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো ওই চিঠিতে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক মন্দা ও চলমান শুল্কযুদ্ধের প্রভাবে রফতানি আয় ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। কার্যাদেশ কমে যাওয়া, ডেফার্ড শিপমেন্ট এবং অর্ডার পিছিয়ে যাওয়ায় কারখানাগুলো চাপে রয়েছে। গত এক বছরে প্রায় ৪০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের ৬০ দিনের মধ্যে প্রায় ২৫ দিন কারখানা বন্ধ থাকবে। অথচ, মার্চ মাসে নিয়মিত (ফেব্রুয়ারির) মজুরি ছাড়াও ঈদ বোনাস ও মার্চের অগ্রিম ৫০ শতাংশ মজুরি পরিশোধ করতে হবে। ফলে এক মাসেই প্রায় দ্বিগুণ বেতন-ভাতা দেওয়ার চাপ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন, পোর্ট চার্জ বৃদ্ধি এবং ব্যাংক সুদের হার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় তারল্য সংকট আরও গভীর হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা ছাড়া শ্রমিকদের সময়মতো মজুরি দেওয়া কঠিন হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

রফতানি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজিএমইএ জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মোট পোশাক রফতানি আয় দুই দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে আগস্ট ২০২৫ থেকে রফতানি আয় ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫-২৬ মাসে প্রবৃদ্ধি থাকলেও পরবর্তী মাসগুলোতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। ডিসেম্বর মাসে রফতানি ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে যায়। একইসঙ্গে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য এক দশমিক ৮৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যচাপের কারণে রফতানিকারকেরা প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না।

চিঠিতে আরও বলা হয়, রফতানি অর্ডারের ক্ষেত্রে কারখানাগুলো সাধারণত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ কাঁচামাল সংগ্রহ এবং প্রায় ২০ শতাংশ ব্যয় মজুরি ও পরিচালনায় ব্যয় করে থাকে। কিন্তু, ডেফার্ড শিপমেন্ট ও অর্ডার পিছিয়ে যাওয়ায় মূলধন দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে এবং একক ঋণগ্রহীতা সীমা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বিজিএমইএ গভর্নরের কাছে বিশেষ বিবেচনায় প্রচলিত ঋণসীমার বাইরে গিয়ে দুই মাসের মজুরির সমপরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ ঋণে তিন মাস গ্রোস পিরিয়ড রেখে ১২ মাসে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, দ্রুত সহায়তা না এলে শ্রম অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা দেশের প্রধান রফতানি খাতের জন্য বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়