শিরোনাম
◈ মি‌ডিয়ার বিরু‌দ্ধে এমন সিদ্ধান্ত কে‌নো? বিসিবির কোন নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে, জানতে চান সাংবাদিকেরা  ◈ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্বাচনের ৩ দিন আগে শুল্ক চুক্তি করবে অন্তর্বর্তী সরকার ◈ রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ◈ কুখ্যাত এপস্টেইন নথিতে বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ◈ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা কেন শঙ্কিত? ◈ জানুয়ারিতে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এলো ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার ◈ কুৎসা রটিয়ে, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এবং ধাপ্পা দিয়ে জনগণের ভোট নেওয়া যায় না : মির্জা আব্বাস  ◈ প্রতারক চক্রের ফোনকলে সাড়া না দিতে নির্বাচন কমিশনের আহ্বান ◈ কিশোরগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে দালালচক্রের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান, ২০ জনের কারাদণ্ড ◈ নোয়াখালীতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর

প্রকাশিত : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৩:২১ দুপুর
আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিকাশ, রকেট ও নগদে এক হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাবে না, নির্দেশনা আসছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) সীমিত করা হচ্ছে। এর ফলে বিকাশ, রকেট, নগদসহ মোবাইল ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। প্রতিটি লেনদেনের সীমা হবে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা। সূত্র: প্রথম আলো 

এ ছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে একে অপরকে টাকা স্থানান্তর সেবা বন্ধ করা হচ্ছে। মূলত ব্যক্তিগ্রাহক থেকে আরেকজন ব্যক্তিগ্রাহককে টাকা পাঠানো বন্ধ করা হচ্ছে। ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি এই সেবা সীমিত থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে যাতে টাকার ব্যবহার না করা যায়, এ জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এই পরিকল্পনা করছে, যা কার্যকর করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে টাকার পরিমাণ কমবেশি হতে পারে।

ইতিমধ্যে নগদ টাকা উত্তোলনের বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে টাকার অপব্যবহার কম হবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। অবশ্য প্রার্থীদের ঘোষণা অনুযায়ী টাকা খরচে কোনো বাধা নেই। এ ছাড়া সমর্থকেরাও নির্বাচনী খরচের জোগান দিয়ে থাকেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ লেনদেন সীমিত করা হবে। এ জন্য কাজ চলছে। চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

কত লেনদেন করা যাবে

বর্তমানে বিকাশ, রকেট, নগদসহ সব মোবাইল ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকেরা দৈনিক একে অপরের কাছে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। এই গ্রাহকেরা প্রতি মাসে তিন লাখ টাকা লেনদেন করতে পারেন। এক দিনে সর্বোচ্চ ৫০টি লেনদেন ও পুরো মাসে ১০০টি লেনদেন করতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রস্তাবনা দিয়েছে, প্রত্যেক গ্রাহক অন্য গ্রাহককে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন। লেনদেন করতে পারবেন ১০ বার। ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সীমা কার্যকর হবে। বিএফআইইউর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে ব্যাংকের গ্রাহকেরা অ্যাপস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে নিজেদের ব্যাংক ও অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের সঙ্গে লেনদেন করতে পারেন। এই সেবায় এখন জনপ্রিয় অ্যাপস ব্র্যাক ব্যাংকের আস্থা, সিটি ব্যাংকের সিটিটাচ, ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে ও পূবালী ব্যাংকের পাই। এই সেবার মাধ্যমে ব্যক্তি গ্রাহকেরা প্রতিদিন ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। প্রতিটি লেনদেনের সীমা তিন লাখ টাকা। সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করা যায়।

নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিএফআইইউ প্রস্তাব দিয়েছে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে আলোচ্য সময়ে (নির্বাচনের সময়ে) ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা স্থানান্তর বন্ধ রাখতে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

নগদ টাকা উত্তোলনে তদারকি জোরদার

এদিকে ১১ জানুয়ারি থেকে নগদ অর্থ জমা বা উত্তোলনে তদারকি জোরদার করেছে। সংস্থাটির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো একটি হিসাবে কোনো এক নির্দিষ্ট দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তদূর্ধ্ব অর্থের বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রার জমা বা উত্তোলনের (অনলাইন, এটিএমসহ যেকোনো ধরনের নগদ জমা বা উত্তোলন) ক্ষেত্রে বিএফআইইউর কাছে নগদ লেনদেনের প্রতিবেদন (সিটিআর) অবশ্যই জমা দিতে হবে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নগদ লেনদেনের এই প্রতিবেদন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে (প্রতি সপ্তাহের রিপোর্ট পরবর্তী সপ্তাহের তিন কার্যদিবসের মধ্যে) জমা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও জানানো হয়েছে, যথাসময়ে সিটিআর দাখিলে ব্যর্থতা অথবা ভুল, অসম্পূর্ণ বা মিথ্যা তথ্য বা বিবরণী সরবরাহে নির্দেশনা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, সিটিআরে কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রথমে পদক্ষেপ নেবে। তাতে ব্যত্যয় হলে সেই ব্যাংক শাস্তির আওতায় আসবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়