শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ৮৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ ◈ ফেরদৌসী মিষ্টির আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন যে ৬৭ নারী নেত্রী ◈ দীপকের আটক ঘিরে নেতৃত্বের সংকট, বিকল্প পরিকল্পনা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত সিজেপির ◈ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ওঠা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কাভার্ডভ্যান চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা যেভাবে উদ্ধার হলো ◈ মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানত না ঢাকা, তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি ◈ হাসিনা-কামালসহ হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চাইবে বাংলাদেশ, ভারতকে কনস্যুলার সংলাপে চাপ ◈ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, ৮-১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন-উত্তর বিক্রি: গ্রেপ্তার ৭ ◈ জামায়াত কার্যালয়ে হামলা: কুমিল্লা মহানগর কমিটি বিলুপ্ত, তদন্ত কমিটি গঠন ◈ ভারতে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন শাহিদাদের

প্রকাশিত : ০২ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:২৩ দুপুর
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি কমছে, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ক্রমে অবস্থান হারাচ্ছে প্রধান রপ্তানিকারক দেশ চীন। দেশটির হারানো অবস্থানে হিস্যা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ। মোট রপ্তানি আয়, রপ্তানির পরিমাণ ও পণ্যমূল্য– সব বিবেচনায় চীনের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে। বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশ। অবশ্য অর্থমূল্যের পরিমাণে চীনের রপ্তানি এখনও বাংলাদেশের দ্বিগুণেরও বেশি।

মার্কিন পাল্টা শুল্ক কাঠামোতে চীন এবং অন্য রপ্তানিকারক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ফলে আগামীতে চীনা হিস্যা বেশ ভালোভাবেই বাংলাদেশ বুঝে নেবে বলে আশা করছেন রপ্তানিকারক উদ্যোক্তারা। মার্কিন নতুন শুল্ক কাঠামোয় চীনা পণ্যের শুল্ক ১৪৫ শতাংশের মতো। অবশ্য প্রকৃত শুল্ক কত, তা এখনও কোনো পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। বাংলাদেশের পণ্য পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ। আবার মার্কিন কাঁচামালে উৎপাদিত পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার মতো বড় শুল্কছাড়ও পাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র । মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের ১৮ থেকে ২০ শতাংশ আসে দেশটি থেকে। 

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) ২০১৫ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত এক দশকের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি মূল্যের বিবেচনায় চীনা তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে ৪৬ শতাংশ। এ সময় বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানির পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৫৪ কোটি ডলার। গত বছর তা নেমে আসে এক হাজার ৬৫১ কোটি ডলারে। অন্যদিকে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫৪০ কোটি ডলার, যা গত বছর ৭৩৪ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। 

জানতে চাইলে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্টের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল গতকাল সমকালকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে চীন ক্রমে দুর্বল হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ২০১৭ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন, সে সময় থেকেই চীন-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক লড়াই শুরু হয়। তখন থেকেই চীনা পোশাকের রপ্তানি কমতে থাকে। আগামীতে আরও কমবে। সেখানে বাংলাদেশ আরও ভালো করবে। তবে আমাদের মূল্য সংযোজিত পণ্যে মনোযোগ বাড়াতে হবে। এখন ভলিউমে বেশি রপ্তানি করেও কম মূল্য পাই আমরা। ভিয়েতনাম কিংবা অন্যান্য দেশ কম রপ্তানি করেও বেশি মূল্য পায়। এখন ভলিউমে যে পরিমাণ রপ্তানি করি, তাতে যদি মূল্য সংযোজন করা যেত, তাহলে একই পরিমাণ রপ্তানি থেকে বড় অঙ্কের রপ্তানি আয় সম্ভব হতো।’ 

অন্যদিকে পরিমাণে গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পোশাকের রপ্তানি কমেছে ১৮ শতাংশেরও বেশি, যেখানে বাংলাদেশের বেড়েছে সাড়ে ৭ শতাংশের মতো। ২০১৫ সালে চীনা পোশাক রপ্তানি হয়েছিল এক হাজার ১৩৮ মিটার। গত বছর তা ৯২৯ মিটারে নেমে আসে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১৮৭ মিটার, যা গত বছর ২৩৭ মিটারে উন্নীত হয়। 

একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনা পণ্যপ্রতি দর বা ইউনিট প্রাইসও কমেছে ৩৪ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশের বেড়েছে সাড়ে ৭ শতাংশের মতো। উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, দশকের শুরুতে ২০১৫ সালে চীনা পণ্যের গড় ইউনিট প্রাইস ছিল দুই ডলার ৬৮ সেন্ট। ২০২৪ সালে তা কমে এক ডলার ৭৮ সেন্টে নেমে আসে। যেখানে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের পোশাকের ইউনিটপ্রতি গড় দর ছিল দুই ডলার ৮৯ সেন্ট। তা থেকে বেড়ে গত বছর তিন ডলার ১০ সেন্টে উন্নীত হয়। সূত্র: সমকাল 

  • সর্বশেষ