মনজুর এ আজিজ: গ্যাস সংকটের কারণে সারাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলাকাভিত্তিক শিডিউল মোতাবেক ১ ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের উদ্যোগ নেন। তবে নারায়ণগঞ্জে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সেই শিডিউল সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না দাবি জনসাধারণের। একদিকে জনগণের ভোগান্তি অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিংয়ের কারণে ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে নিটওয়্যার শিল্প। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলাতে লোডশেডিং চলছে ৪-৫ ঘণ্টা।
তবে ডিপিডিসি কর্মকর্তারা বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, লোডশেডিং পূর্ব নির্ধারিত শিডিউল মেনেই হচ্ছে। কোথাও কোন ত্রুটি থাকলে সেটা ভিন্ন বিষয়। গত সোমবার থেকে নারায়ণগঞ্জে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং শুরু হয়। রোববার পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরেও লোডশেডিং হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে পিডিবি জানিয়েছে, রোববার সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে রোববার বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে ১২ হাজার ৩১৩ মেগাওয়াট। তাতে রোববারও বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ১৬৮৭ মেগাওয়াট। আর শনিবার বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ১২৪২ মেগাওয়াট।
এদিকে লোডশেডিংয়ের শিডিউল ঢাকায় মোটামুটি মানা হলেও অন্য কোথাও মানা হচ্ছে না। বেশি অভিযোগ গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণকারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে। সরকারের তরফ থেকে ১ ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের কথা বলা হলেও কমপক্ষে ৫ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকছে না। সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও ময়মনসিংহের নেত্রকোনায় ২৪ ঘন্টায় ৫-৬ ঘন্টা লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাসহ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক, আমলাপাড়া, মাসদাইর, জামতলা এলাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরে একাধিকবার কোথাও কোথাও ৩-৪ বার পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছন, সরকার সময় নির্ধারণ দিলেও সেই সূচি মেনে লোডশেডিং হচ্ছে না। ফলে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষত গৃহস্থালির কাজে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। দিনে একবার লোডশেডিংয়ের কথা থাকলেও কখনো কখনো ৩-৪ পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যায়।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১০টি ডিজেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রাখায় ১ হাজার ৬১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানি বন্ধ রাখায় আরও প্রায় ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হচ্ছে। ফলে ১ ঘন্টা করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ প্রায় ১৪০-১৫০ মেগাওয়াট কম পাচ্ছি। এক ঘণ্টা লোডশেডিং করার পরও বিদ্যুতের ঘাটতি থাকার কারণে আমাদের অতিরিক্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এক ঘণ্টা লোডশেডিং করার পর আমাদের দরকার প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু এখন সরবরাহ করা হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ মেগাওয়াটের মতো। প্রতিদিন ১৫০ মেগাওয়াট কম পাচ্ছি। যে কারণে আরও অতিরিক্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
লোডশেডিং প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) কার্যকরী কমিটির নির্বাহী সভাপতি মো. হাতেম জানান, লোডশেডিং মানেই আমাদের উৎপাদন ব্যাহত হবে। তবে পরিকল্পিত যে ১ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কথা বলা হয়েছিল, সেটা কিন্তু ম্যানেজেবল। সেটা আমরা ম্যানেজ করতে পারি। তবে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি হলে সেটা আমাদের জন্য সমস্যা। আর এখানে বিদ্যুতের চেয়ে আমাদের বড় যে সমস্যা হচ্ছে গ্যাস সংকট। লোডশেডিং ১ ঘণ্টা ম্যানেজ করা গেলেও গ্যাস সংকট ম্যানেজ করা যাচ্ছে না। ফলে আমাদের উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রপ্তানি। আমাদের শিডিউল ঠিক থাকছে না, এয়ার শিপমেন্ট করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে মার্কেট বাড়াবার যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তাও আমাদের হাতছাড়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এলএনজি কেন আসছে না। তারা হয়ত ভাবছে এলএনজি আমদানি করতে গেলে রিজার্ভের ডলার কমবে। রিজার্ভের ডলার দিয়ে এলএনজি উৎপাদন যদি সচল রাখা হয়, তাহলে আমরা তার দ্বিগুণ রিজার্ভ এনে দিতে পারি।