শিরোনাম
◈ ‘বিন লাদেনের মতো দাউদ ইব্রাহিমও পাকিস্তানে লুকিয়ে আছেন’, জাতিসংঘের প্রতিনিধিকে ভারতের জবাব ◈ হঠাৎ ইরান সীমান্তের কাছে ইসরায়েলের বিশাল সামরিক অভিযান, শক্তি প্রদর্শনে নতুন তৎপরতা ◈ হেলিকপ্টারে সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে দাকোপ থেকে নৌপথে মোংলা বন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ সৌদিতে হামলার উত্তেজনার মধ্যেই দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালু রাখল বিমান, গেলেন ৩৭৯ যাত্রী ◈ সাজেকে সড়ক অবরোধ ঘিরে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি, আটকা পড়েন পর্যটকরা ◈ ঢাকার যানজট কমাতে ২০ বছরের পুরোনো বাস অপসারণসহ সরকারের যে চার উদ্যোগ ◈ ইরানের জনগণের অধিকার মেনে নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে, বন্ধ করতে হবে আগ্রাসন ও দাদাগিরি: প্রেসি‌ডেন্ট পে‌জেশ‌কিয়ান ◈ সৌদি আরব থেকে মার্কিন কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ◈ শেষ মুহূর্তের গোলে বায়ার্নের মাঠে পয়েন্ট উদ্ধার আর্সেনালের ◈ এবার ইতা‌লির ক্লাব কোমোর কা‌ছে হারলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

প্রকাশিত : ০৮ মে, ২০২৫, ০৭:৫৩ বিকাল
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হলে ৫০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক : পর্যাপ্ত গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে পোশাক শিল্পের বর্তমান কাঠামোর মধ্যেই ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন দি ইন্সটিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি) এর কর্তাব্যক্তিরা। বৃহস্পতিবার (৮ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে দি ইন্সটিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি) কর্তৃক আয়োজিত এক প্রাক বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উঠে আসে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহবায়ক এহসানুল করিম কায়সার, সদস্য সচিব মো. এনায়েত হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশজ রপ্তানির ৮৪ শতাংশ রপ্তানি করে থাকে শুধুমাত্র তৈরি পোশাক খাত। আর তৈরি পোশাক খাতের উপর নির্ভর করেই ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড শিল্পের ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে। গত ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে একদিকে শ্রমিক অসন্তোষ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ঘাটতি এবং অনিয়মিতভাবে গ্যাসের সরবরাহ, অন্যদিকে ২০২৩ সালে হঠাৎ করে গ্যাসের মূল্য ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। ফলে টেক্সটাইল শিল্প কারখানাগুলোকে চ্যালেঞ্জ ও ঝুকির মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে। 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৩৮.৪৮ বিলিয়ন ডলার তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। পর্যাপ্ত গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বর্তমান কাঠামোর মধ্যেই ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি সম্ভব বলে আমরা মনে করি। বর্তমান সরকার বিদেশী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য। কিন্তু গ্যাসের সরবরাহের নিশ্চয়তা না দিয়ে নতুন কারখানায় গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে পুরাতন/ চলমান কারখানার চেয়ে গ্যাসের মূল্য ৩৩ শতাংশ বেশি নির্ধারণ করে মূলত নতুনদেরকে শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনুৎসাহিত করা হচ্ছে।

তারা বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, শ্রমিকের বেতনবৃদ্ধি ও অধিকতর মূলস্ফীতির কারণে ইতোমধ্যে ৫০০ ছোট বড় কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় টেক্সটাইল খাতের বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

জনগণকে বেকার রেখে দিন বদল করা যাবে না। বেকারত্ব দূর করতে হলে প্রাইমারী ও তৈরি পোশাক শিল্পকে সচল ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন সরকার উৎপাদনমুখী শিল্পে যে কোন পরিমাণ বিনিয়োগে প্রশ্ন ব্যতীত অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করার সুযোগ প্রদান করেছিল। সে সময় তার সুফলও পাওয়া গিয়েছিল, প্রচুর পরিমাণে শিল্পে বিনিয়োগ হয়েছিল। এই সুবিধা প্রদান করার সুফল দেশ ও জনগণ পেয়েছে, উপরন্ত কালো টাকা শিল্পে বিনিয়োগের ফলে পাচারকে অনুৎসাহিত করা গেছে। আসন্ন বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ শিল্প ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুবিধা প্রদান করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এছাড়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়মিতকরণ, ব্যাংক সুদের হার ১০ ভাগে নামিয়ে আনা, ব্যাংকিং চার্জ কমানো, বন্দরের চার্জ হ্রাস, শ্রমিক অসন্তোষ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ইত্যাদি বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে শিল্প উৎপাদনে গতিশীলতা আনয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক। বিগত কিছুদিন যাবৎ তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শিল্পে বেশ কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, ফলে উৎপাদন বন্ধ থেকেছে। এ নিয়ে দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তা ও ক্রেতাগণ উদ্বিগ্ন। যে কোন পরিস্থিতিতে শিল্পক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও অসন্তোষ মুক্ত রাখতে সরকারের দৃষ্টি দিতে হবে।

  • সর্বশেষ