হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মিডল্যান্ড ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে অপহরণ করে মারধরের পর ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে মহাসড়কের পাশে আহত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছন।
এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের সোনাখোলা নামক স্থান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে আহত অবস্থায় ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহত বাহাউদ্দিন শেখ (৩৪) ভাঙ্গা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছিলাধরচর মহল্লার বাসিন্দা। তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর শাখায় মিডল্যান্ড ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাহাউদ্দিন শেখ জানান, সোমবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা পৌরসভার দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ডে তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার তার সামনে এসে থামে। চালক তাকে ঢাকায় যাওয়ার যাত্রী হিসেবে উঠতে বলেন। এ ছাড়া গাড়িতে থাকা আরও তিনজন নিজেদের যাত্রী হিসেবে পরিচয় দেন।
তিনি জানান, গাড়িতে ওঠার দেড়-দুই মিনিট পরই ভেতরে থাকা দুজন তার মুখ বেঁধে মারধর শুরু করেন। এ সময় হাতুড়ি দিয়ে তাকে পিটিয়ে জিম্মি করা হয় এবং স্বজনদের কাছে বিকাশ নম্বরে টাকা চেয়ে তা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। প্রাইভেটকারটি প্রথমে ঢাকামুখী কিছুদূর যাওয়ার পর পুনরায় ঘুরে ভাঙ্গা হয়ে ফরিদপুরের দিকে এবং পরে গ্রামীণ কাঁচা সড়কে কিছুক্ষণ চালানো হয়। স্বজনদের পক্ষ থেকে দুর্বৃত্তদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ১ লাখ টাকা পাঠানোর পর তাকে প্রায় অচেতন অবস্থায় মহাসড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। যাওয়ার সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল সিমটি নিয়ে প্রাইভেটকারটি ফরিদপুরের দিকে চলে যায়।
ভুক্তভোগীর চাচাতো ভাই সোহাগ শেখ বলেন, "বাহাউদ্দিনকে জিম্মি করে আমাদের কাছে ফোন করা হয়। পরে আমরা বাধ্য হয়ে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা পাঠিয়ে দিই।"
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সহকারী মো. আখতারুজ্জামান জানান, বাহাউদ্দিন শেখের বুক, হাত ও পায়ে পেটানোর একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, "এ ব্যাপারে একটি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিক তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং সত্যতা সাপেক্ষে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"