রুশমি আকতার, বাউফল প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালাইয়া বন্দরের উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়া এবং জমি নিয়ে বিরোধের অবসানের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বন্দরের বড় পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, বন্দরের প্রাণকেন্দ্রে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ বিরোধের সঙ্গে সালাম খান ওরফে ব্যারিস্টার সালামের নাম উল্লেখ করে তাঁরা সরকারি জমির মালিকানা যাচাই এবং জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, কালাইয়া বন্দরের বড় পুকুরের পশ্চিম পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনে পূবালী ব্যাংকের কালাইয়া শাখার উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ২২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছিল। তবে পুকুরের পাড়ের জমি নিজের বলে দাবি করে সালাম খান বাধা দেওয়ায় কাজটি বন্ধ হয়ে যায় বলে তাঁদের অভিযোগ।
তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, বন্দরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত প্রায় ১৫০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জমিটির প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল হাসান মুনসুর, বিএনপি নেতা হাজী আব্দুল খালেক সরদার, যুবদল নেতা রাজন মনসুরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
কালাইয়া মার্চেন্ট পট্টি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, কালাইয়া বন্দর দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এ বন্দরের সঙ্গে ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শ্রমজীবী মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা জড়িত। জমি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। একই সঙ্গে বন্দরের উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং জনস্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সালাম খান বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তিনি জমিটি বন্দোবস্ত পেয়েছেন এবং নিম্ন আদালতের রায় তাঁর পক্ষে রয়েছে। সরকার আপিল করার পর উচ্চ আদালত ওই জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। জমির পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগ অপপ্রচার।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহম্মেদ বলেন, পুকুরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন হোক, তা তিনিও চেয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত জায়গায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।