কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালী কালীপুর ইউনিয়নের গুনাগরীতে বুধবার রাত ৩টার দিকে কথিত মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশের এক সদস্যের হোটেলে বসে চা নাস্তা খাওয়ার ভিড়িও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সমাজকর্মী মোঃ মারুফ তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করেন, মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান নেওয়া এবং মাদক ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি নিজের ও তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে তিনি মাদক কারবারি ও পুলিশের কোনো কোনো সদস্যের রোষানলে পড়তে পারেন।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, গুনাগরীতে রাত ৩টার দিকে চিহ্নিত মাদককারবারি জাহাঙ্গীরের সঙ্গে পুলিশের এক সদস্যের আলোচনা ও খাওয়াদাওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং খাবারের বিল পরিশোধ করেছেন জাহাঙ্গীর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক কারবারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এমন ঘনিষ্ঠতা থাকলে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী সচেতন নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
কালীপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জিসানুল হক জিটু তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন,
প্রশ্ন রাখলাম আমার প্রিয় বাঁশখালীবাসীর কাছে এই নাটকের শেষ কোথায়?
যে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরকে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেফতার করার কথা ছিল, আজ সে গ্রেফতার হওয়া তো দূরের কথা, রাত ৩টার অন্ধকার নিঝুম রাতে পুলিশের সাথে গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে বসে!
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা যেখানে হুমকির মুখে, সেখানে প্রশাসনের এই গোপন বৈঠক কিসের ইঙ্গিত দেয়?
সবচেয়ে বড় প্রহসন হলো, এই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ বা যারা বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করেছে, উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই এখন জিডি, মামলা আর অভিযোগের পাহাড় তৈরি হচ্ছে! অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরছে, আর প্রতিবাদী কণ্ঠকে চেপে ধরার চেষ্টা চলছে।
তাহলে আমাদের বুঝে নিতে কি আর বাকি থাকে যে, এই মাদক ব্যবসায়ীদের আসল শক্তির উৎস বা খুঁটির জোরটা ঠিক কোথায়?
মনে রাখবেন, বাঁশখালীর মাটি অন্যায়-অবিচারের কাছে কখনো মাথা নত করেনি। মাদকের এই বিষাক্ত ছোবল থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে। অনতিবিলম্বে এই লোকদেখানো নাটক বন্ধ করে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরসহ সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে এএসআই আলমগীর বলেন, তিনি বাঁশখালী থানায় নতুন যোগ দিয়েছেন। জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন মামলা থাকার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। গত ২২ আগস্ট জাহাঙ্গীর আলম কালীপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইসমাইলের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পান তিনি।
এএসআই আলমগীর অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দিতে জাহাঙ্গীরকে বলা হয়েছিল। বুধবার রাতে তাঁর কাছে একটি খালি চেক থাকার কথা জানিয়ে সেটি দেওয়ার জন্য রেস্তোরাঁয় আসতে বলেন জাহাঙ্গীর। ওই রাতে তাঁর বাহারছড়া এলাকায় দায়িত্ব ছিল। তিনি ইলশা গ্রাম থেকে সেখানে যান। নথিপত্র সংগ্রহের জন্যই তাঁদের বসা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) মোঃ রবিউল হক বলেন মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি পালন করছে।অথচ সামান্য একটা বিষয়কে নিয়ে এভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।
তিনি বলেন,যতটুকু জানতে পেরেছি জাহাঙ্গীরের একটা অভিযোগের তদন্তে বিষয়ে জানতে সেখানে বসেছিল। তারপরে ও বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।