হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের নগরকান্দায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়াতে একটি আধুনিক সরকারি গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের অভিযোগ, উপজেলায় একাধিক নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও পাঠ্যবইয়ের বাইরে মননশীল জ্ঞানচর্চার জন্য কার্যকর কোনো পাবলিক লাইব্রেরি নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার নগরকান্দায় ‘বঙ্গবন্ধু পাবলিক লাইব্রেরি’ নামে একটি গণগ্রন্থাগার উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের পর থেকেই এটি নিয়মিত পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পাঠাগারটির নাম পরিবর্তন করে ‘জিয়া পাবলিক লাইব্রেরি’ রাখা হলেও এর সেবা ও কার্যক্রমে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। পুরোনো ও পরিত্যক্ত একটি ভবনে এটি স্থাপন করায় সেখানে নিয়মিত পাঠ কার্যক্রমও গড়ে ওঠেনি।
নগরকান্দা পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি (এম.এন. একাডেমি), সরকারি নগরকান্দা কলেজ, শহীদ আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও দুটি কওমি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীদের প্রত্যাশা পূরণে এখন পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন গণগ্রন্থাগার নির্মাণের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন সচেতন নাগরিকদের মতে, তরুণদের মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি, অপসংস্কৃতি এবং মাদক থেকে দূরে রাখতে একটি আধুনিক পাঠাগার অত্যন্ত জরুরি। নতুন ভবনে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, মুক্তিযুদ্ধ ও সাধারণ জ্ঞানের বই, চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির সামগ্রী, জাতীয়-স্থানীয় পত্রিকা ও শিশুদের উপযোগী বইয়ের ব্যবস্থা রাখার দাবি জানান তাঁরা।
নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ বলেন, “পড়াশোনা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটাতে প্রচুর বই পড়া দরকার, যা নগরকান্দায় নেই। তাই এখানে একটি আধুনিক গণগ্রন্থাগার স্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও লেখক মো. ইব্রাহিম খান বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, নগরকান্দা উপজেলায় অদ্যাবধি কোনো কার্যকর গ্রন্থাগার গড়ে ওঠেনি। বর্তমান প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গণগ্রন্থাগার বিশেষ ভূমিকা রাখবে।”
একই দাবি জানিয়ে নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম মুজাহিদুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং ইন্টারনেটের অপব্যবহার কমাতে সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা সময়ের দাবি।”
এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির পুরোনো ভবনটি ভেঙে সেখানে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই ভবনের একটি তলায় শিল্পকলা একাডেমি, একটিতে পাবলিক লাইব্রেরি এবং অন্যটিতে অফিসার্স ক্লাব স্থাপন করা হবে। তবে আপাতত পুরোনো লাইব্রেরিটি সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কেবল নামসর্বস্ব কোনো পাঠাগার নয়, নগরকান্দায় দ্রুতই একটি কার্যকর ‘পাবলিক লাইব্রেরি’ গড়ে উঠবে—যেখানে প্রতিদিন বই হাতে নির্দ্বিধায় জ্ঞানচর্চা করতে পারবেন সব বয়সী পাঠক।