শিরোনাম
◈ ল্যাবে তৈরি ভয়ংকর মাদক ‘কুশের’ ভয়ংকর বিস্তার, আসক্ত হচ্ছে শিক্ষিত তরুণরা ◈ সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারের নির্দেশ ◈ দেশভাগের ৭৯ বছর পর ব্রহ্মপুত্র দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য পাঠাল ভারত ◈ জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হতে যাচ্ছে ভারত: আইএমএফ ◈ ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৩ ◈ মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিনা খরচে নিয়োগ, অনুমোদন পাচ্ছে ৩৩৮ এজেন ◈ সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচন: শুক্রবার থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করবে বিএনপি ◈ কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ◈ গাজীপুরে স্বামীকে পাশের ঘরে আটকে গার্মেন্টসকর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ◈ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যে জরুরি নির্দেশনা

প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:২৩ রাত
আপডেট : ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:২৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

টাঙ্গাইলে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র: মূল হোতা উজ্জ্বল সরকার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

আরমান কবীর: প্রলোভন, গোপন যোগাযোগ আর ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদ। এমন নানা অভিযোগ ঘিরে এখন টাঙ্গাইলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে এ চক্রের মাধ্যমে নারীদের দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মূল হোতা হিসেবে কালিহাতীর এলেঙ্গা পৌরসভার রাজাবাড়ী এলাকার মো. উজ্জ্বল সরকারের নাম সামনে এলেও তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, উজ্জ্বল বিভিন্ন উঠতি বয়সের নারী ও স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের দিয়ে টাকাওয়ালা ব্যক্তিদের টার্গেট করতেন। পরে ওই নারীদের দিয়ে বিভিন্ন পন্থায় আটক করে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন উজ্জ্বল ও তার চক্রের সদস্যরা।

এ নিয়ে ৭ মিনিট ৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দুই মেয়ের সাথে উজ্জ্বলকে মুঠোফোনে কথা বলতে শোনা যায়।

Advertisement

এক মেয়ে উজ্জ্বলকে বলছে, _“ভাই আমরা এতো রিক্স নিচ্ছি, আমরা যাতে খালি হাতে না ফিরি।”_  
জবাবে উজ্জ্বল ওই মেয়েদের বলছে, _“রুমে প্রবেশের সময় এসএমএস দিবে ‘ভাই আমরা ঢুকলাম’। তারপর আমাদের রুম পর্যন্ত যেতে ৩ থেকে ৫ মিনিট লাগবে। তারপর আমরা ভিডিও ধারণ করবো। টাকা কিভাবে দিবো, সেটা আমার উপর ছেড়ে দাও। টাকা নেয়ার বিষয়ে আমার পড়াশোনা করা আছে। টাকা না দেয়, এক কোটি টাকা কাবিন করে তোমাদের বিয়ে করাবো।”_

অভিযোগ রয়েছে, পরিচিতি ও ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে প্রথমে আস্থা অর্জন, এরপর ব্যক্তিগত তথ্য বা স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টি করা হতো। কখনো অর্থ আদায়, কখনো সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করার অভিযোগও রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা উজ্জ্বল এখনো কেন গ্রেপ্তার হননি? তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেগুলোর তদন্ত কত দূর এগিয়েছে? এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না?

এদিকে, এ ধরনের প্রতারণার শিকার অনেকেই সামাজিক সম্মানহানি, ভয়ভীতি কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের আশঙ্কায় মুখ খুলতে চান না। ফলে অপরাধের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে দেরি হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উজ্জ্বল সরকার বলেন, “আমি এ ধরনের কোন কাজের সাথে জড়িত না। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাই।”

এ বিষয়ে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের সচেতন মহল।

  • সর্বশেষ