সরওয়ার আজম মানিক,কক্সবাজার : কক্সবাজার শহরে আবাসিক হোটেল কক্ষ থেকে গলাকাটা অবস্থায় এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ; তবে স্বামী পরিচয়ে হোটেল উঠা যুবক ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।
পুলিশের ধারণা, স্বামী পরিচয় দেয়া পরকিয়া প্রেমিক এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে।
বুধবার রাত ৮ টার দিকে কক্সবাজার কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন আবাসিক হোটেল কক্ষের বাথরুম থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান, সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।
নিহত কুলসুমা আক্তার ( ২৬ ) ঈদগাঁও উপজেলার চাঁন্দেরঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আলমের মেয়ে। তিনি একই এলাকার মোহাম্মদ হারুনের স্ত্রী।
নিহত গৃহবধূর সঙ্গে হোটেলে উঠা যুবক কক্ষ বুকিংয়ের নথিতে মোহাম্মদ আরফান নাম উল্লেখ করলেও স্বজনরা ওই নামে কাউকে চিনেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বজনদের বরাতে শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী হারুনের বিরুদ্ধে কুলসুমা আক্তারের দায়ের করা একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বুধবার ওই মামলার বিচারকাজের দিন ধার্য ছিল। সকালে ৩ বছর শিশু সন্তান নিয়ে কুলসুমা আদালতে হাজিরা দিতে আসেন।
“বুধবার রাতে শহরের কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকাস্থ স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্ট নামের আবাসিক হোটেল কক্ষে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে হোটেলটি ৩০২ নম্বর কক্ষের বাথরুম থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। “
ওসি বলেন, “ ঘটনার পর থেকে ওই নারীর সঙ্গে হোটেল উঠা যুবক পলাতক রয়েছে। নিহত নারী বাবা-মা সহ স্বজনরা পলাতক যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। এতে পুলিশের ধারণা করছে, পলাতক যুবক ওই নারীর পরকিয়া প্রেমিক হতে পারে। “
তবে আদালতে মামলায় হাজিরা দিতে আসা ওই গৃহবধূ কখন, কিভাবে হোটেলে উঠলেন এব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।
এ নিয়ে শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলটির দুই কর্মচারী পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত নিশ্চিত করতে পারবে।
নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।