হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৩৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট শনাক্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে পাঁচ হাজার।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন রোগী নতুন করে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে দুই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৭ জন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৯৩ জনে। এর মধ্যে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৫৪ জনের হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে, তবে সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ হাজার ৬০৭ জনের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে এবং ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে এখন পর্যন্ত আলফাডাঙ্গায় ২৮, বোয়ালমারীতে ২৫, ভাঙ্গায় ১২, চরভদ্রাসনে ১৭, নগরকান্দায় ২, মধুখালীতে ৬, সদরপুরে ১৪, সালথায় ২৩ এবং ফরিদপুর সদর উপজেলায় ৫ জনের হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। অবশ্য উপজেলাগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী শনাক্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে ফরিদপুর জেলার ২৫ জন এবং পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলার ১১ জন রয়েছেন। বর্তমানে দুই হাসপাতালে সর্বমোট ৮৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
সামগ্রিক পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্য বিভাগের পদক্ষেপ নিয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, "হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা শুরু থেকেই মাঠপর্যায়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আইসোলেশন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের অধিকাংশই হাসপাতালে বেশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেরিতে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসার এবং টিকা কার্ড অনুযায়ী হামের প্রতিরোধমূলক টিকা নিশ্চিত করার জন্য আমরা অভিভাবকদের প্রতি জোর আকুল আবেদন জানাচ্ছি।"