শিরোনাম
◈ ডিসেম্বরে পোশাকশ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি চূড়ান্ত হবে, জানুয়ারিতে পাবেন বাড়তি বেতন ◈ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে চাপে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত, ঝুঁকিতে ফ্লাইট ও প্রবাসী যাত্রী পরিবহন ◈ বিশ্বকা‌পে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে টিকিটের আবেদন ৮৪ লাখ, আসন মাত্র ৩৪ হাজার ◈ সাভারে ফের পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ ◈ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় ডেমোক্র্যাটদের, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারাল ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ◈ মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার মু‌খোমু‌খি সংঘর্ষ, ৪ জ‌নের মৃত‌্যু ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইস‌্যু‌তে ম‌তের অ‌মিল, জোটে থেকেই জামায়াতকে চাপে রাখতে চায় এনসিপি ◈ এশিয়া কাপের জন্য প্রাথমিক দল ঘোষণা কর‌লো বি‌সি‌বি ◈ আতলেতিকোর মাঠে বায়ার্ন মিউনি‌খের দুই গোলের জয় ◈ দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও জয় পে‌লো ম‌্যান‌চেস্টার ইউনাইটেড

প্রকাশিত : ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২৬ বিকাল
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পর্বতারোহীদের প্রস্রাবের কারণে এভারেস্টে বছরে গলছে ২,৫০০ টন বরফ

নতুন এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এভারেস্ট বেজ ক্যাম্পে পর্বতারোহীদের পোড়ানো জ্বালানির তাপ এবং সরাসরি হিমবাহে ত্যাগ করা মূত্রের কারণে প্রতি বছর ২ হাজার ৫০০ টন বরফ ও তুষার গলে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল খুম্বু হিমবাহ নিয়ে এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন। এভারেস্টের নেপাল অংশে অবস্থিত বেজ ক্যাম্পটি এই হিমবাহের ওপরে অবস্থিত। তাদের এই গবেষণার ফলাফল 'রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ' নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

বসন্তকালে পর্বতারোহণের মৌসুমে হাজার হাজার পর্বতারোহী, গাইড ও সহায়তাকারী কর্মী এই ক্যাম্পে জড়ো হন। এ সময় জায়গাটি জমজমাট পর্যটন গ্রামে পরিণত হয়। এসপ্রেসো ক্যাফে, বড় পর্দার টিভি, উচ্চগতির ইন্টারনেট, গরম পানির গোসল ও তাঁবুর মেঝে গরম রাখার ব্যবস্থাও থাকে সেখানে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমের ৫০ দিনে ক্যাম্পের প্রায় ১ হাজার ৬০০টি তাঁবুতে রান্নাবান্না, উষ্ণতা ও বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৮২৪ ক্যানিস্টার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), ১৮ হাজার ৯৩৫ লিটার কেরোসিন ও ৫ হাজার ১৩০ লিটার পেট্রোল।

Advertisement

মানুষের প্রস্রাবের তাপ ও ব্যবহৃত জ্বালানি মিলিয়ে এখানে মোট ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ মেগাজুল তাপশক্তি উৎপন্ন হয়েছে। এই পরিমাণ তাপ আনুমানিক ২ হাজার ৪৯২ টন বরফ ও তুষার গলানোর জন্য যথেষ্ট। হিসাবের ত্রুটি বা মার্জিন ভব এরর বিবেচনায় নিলে, বরফ গলার এই পরিমাণ ১ হাজার ৯৬৪ থেকে ৩ হাজার ২০ টনের মধ্যে হতে পারে। 

গলে যাওয়া এই পানি দিয়ে অলিম্পিক গেমসের আকারের একটি সুইমিং পুল, অথবা প্রায় ৮৩টি পানির ট্যাংকার, কিংবা প্রায় ১৬ হাজার ৭০০টি সাধারণ বাথটাব পুরোপুরি ভরে ফেলা সম্ভব।

এ গবেষণায় মানুষের মূত্র নিজেই তাপের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। উঁচুতে পানিশূন্যতা এড়াতে পর্বতারোহী ও গাইডরা প্রচুর পরিমাণে পানি পান করেন। এর ফলে প্রতিদিন সেখানে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬ হাজার লিটার মূত্র ত্যাগ করা হয়।

কঠিন বর্জ্যগুলো সংগ্রহ করে পাহাড়ের নিচে নিয়ে আসা হলেও প্রস্রাবের বেশিরভাগই সরাসরি হিমবাহের ওপর ত্যাগ করা হয়। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এক মৌসুমে শুধু প্রস্রাবের তাপেই প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলে যেতে পারে।

স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যে বেজ ক্যাম্পের আশপাশের এলাকায় ব্যাপকভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রমাণ মিলেছে। ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ল্যান্ডস্যাট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ক্যাম্প এলাকার ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রতি বছর গড়ে ০.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে। এই বৃদ্ধির হার আশপাশের খুম্বু হিমবাহের রেকর্ড করা হারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

নেপালের ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিনিয়র সার্ভেয়ার কিম লাল গৌতমও এই গবেষক দলে ছিলেন। দলটি বলছে, হিমবাহের ওপর মানুষের এই প্রভাবের প্রকৃত মাত্রা সম্ভবত আরও অনেক বেশি। কারণ তাদের এই হিসাবে হেলিকপ্টার চলাচলের ফলে সৃষ্ট তাপ, পর্বতারোহীদের শরীরের স্বাভাবিক উষ্ণতা ও রসদ বহনে ব্যবহৃত চমরীগাইয়ের শরীরের তাপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এভারেস্টের হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করেছেন গবেষকরা। তবে তারা এ-ও বলেছেন, দ্রুত গলতে থাকা একটি হিমবাহের ওপর বছরের পর বছর এভাবে হাজার হাজার মানুষের জমায়েত মেনে নেওয়ার মতো নয়। 

তারা আরও বলেন, 'দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে বেজ ক্যাম্প হিমবাহের ওপর থেকে সরিয়ে কাছাকাছি কোনো স্থিতিশীল এলাকায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।'

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড 

  • সর্বশেষ