ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর শহরের হাউজিং এস্টেট আবাসিক এলাকার সরকারি সড়কের অন্তত পাঁচ শতাংশ জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত খান রাজুর বিরুদ্ধে। সরকারি মালিকানাধীন ওই সড়কে নির্মিত ঘরটি ‘মদিনা স্টিল ফার্নিচার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে মাসে ২০ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
ফরিদপুর সদর উপজেলার গোয়ালচামট ও রঘুনন্দনপুর এলাকায় হাউজিং এস্টেট আবাসিক এলাকার বি-ব্লকের ২২ নম্বর সড়কে এ দখলের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বি-ব্লকের ২৯ নম্বর প্লটের মালিক বিএনপির নেতা আবুল হাসনাত খান রাজু। এর পাশেই রয়েছে সরকারি মালিকানাধীন ৩০ নম্বর প্লট। অভিযোগ উঠেছে, দুই প্লটের মাঝখানে থাকা প্রায় ৩০ ফুট প্রস্থ ও ৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের নির্ধারিত সড়কটির জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করার পর তিনি এ ঘর নির্মাণ করেন। দখল করা ওই জমির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। প্রভাবশালী এই নেতার ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে আবুল হাসনাত খান রাজু বলেন, "আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই জায়গাটি ব্যবহার করছি। বর্তমানে সেখানে মানুষের চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আশপাশের জমিগুলো আমাদের হওয়ায় সড়কটি আমরা ব্যবহার করছি।"
সরকারি জায়গা দখলের বিষয়টি তুলে ধরা হলে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, "সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ সরকারকেই করতে হবে।" একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেদকের প্রশ্নের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সংবাদ প্রকাশ করা হলে প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ প্রচারের হুমকি দেন।
হাউজিং এস্টেট কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান লাবলু জানান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এসব প্লট পরিকল্পিতভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৩০ নম্বর প্লটের সামনের সড়কে স্থাপনা তৈরি করায় ভবিষ্যতে ওই প্লটের বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তির চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি নিজেও ৩০ নম্বর প্লটটির জন্য আবেদন করেছেন জানিয়ে সরকারি সড়কটি দখলমুক্ত করতে দ্রুত কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, "আবাসিক এলাকার জায়গা দখলের বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের যশোর ও খুলনা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি। তারা তাদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন।"
খুলনা বিভাগীয় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। পরে খুলনা বিভাগীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সচিব মন্দীপ ঘরাইর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অবৈধ দখলের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাবেন এবং বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় নেতার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসা বলেন, "দলের নাম ব্যবহার করে হোক বা অন্য কেউ—জমি দখলের কোনো অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগীদের স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করা উচিত। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।"