সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে লাহিড়ী মোহনপুর ও বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ত্রিমোহিনী নদীর প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশ লিজ (ইজারা) দেওয়া হয়েছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। নদীতে নামলেই গুনতে হচ্ছে নগদ টাকা।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদীর মধ্যে কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকলেও তা ইজারা দেওয়ার অধিকার কারও নেই। তবে আইনের তোয়াক্কা করছেন না পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে নদী ইজারা দেওয়া ব্যক্তিরা।
উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের শুকুলহাট, দহকুলা, মোহনপুর বাজার এলাকার জেলেদের অভিযোগ, ত্রিমোহিনী নদীর মোহনপুর মহাশ্মশান, বংকিরাট এবং বড়পাঙ্গাসী কলেজ এলাকার প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশ ইজারা নিয়েছেন স্থানীয় রওশন আলী নামে এক ব্যক্তি। দেড় লাখ টাকায় এক বছর মেয়াদি লিজ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হাজী, কানাই হালদার, অধীর হালদারসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ফলে পার্শ্ববর্তী এলাকার জেলেদের এখন নদীর নির্দিষ্ট স্থানভেদে মাছ ধরার জন্য প্রতিদিন ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ইজারাদারদের দিতে হচ্ছে।
শুকুলহাট গ্রামের মোনাল হালদার, দহকুলা গ্রামের আছাব আলী, মোহনপুর বাজারের ফেরদৌস রহমান, মিলপাড়া গ্রামের আব্দুল হাইসহ কয়েকজন মৎস্যজীবী অভিযোগ করেন আফজাল, কানাই ও অধীর হালদাররা নদীর মধ্যে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে বলে দাবি করেন। এ কারণে তারা কয়েক বছর ধরে তাদের সম্পত্তির এলাকায় নদীর অংশ ইজারা দিয়ে থাকেন। যারা ইজারা নেন তাদের নদীর নির্দিষ্ট অংশে মাছ ধরতে প্রতিদিন হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এতে তাদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী জেলেরা আরও বলেন, নদীতে মাছ ধরতে কাউকে টাকা দিতে হয় কোনো দিন শুনিনি। অথচ কয়েক বছর ধরে তাদের কাছ থেকে নদীর তলদেশে পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে আফজাল হাজিরা অবৈধভাবে টাকা নিচ্ছেন। অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে জেলেদের বিনামূল্যে নদীতে মাছ ধরার সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তারা।
নদী ইজারা দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে আফজাল হাজী সমকালকে বলেন, ‘এক সময়ে ত্রিমোহিনীর এই অংশ নদী ছিল না। এটা ছিল বিল এবং তাদের পূর্বপুরুষদের রেকর্ডের সম্পত্তি। পরবর্তী সময়ে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পুরো বিল এলাকাটা নদীর অংশে রূপ নেয়। যেহেতু এটা তাদের সম্পত্তি, সে কারণে তারা কয়েক বছর ধরে কম মূল্যে লিজ দিচ্ছেন।’ তাদের দাবির সপক্ষে যথেষ্ট কাগজপত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বছর লিজদাতাদের কাছ থেকে এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন শুকুলহাট এলাকার রওশন আলী। তিনি বলেন, অনেক টাকা দিয়ে তিনি নদীর অংশ ইজারা নিয়েছেন। এ কারণে জেলেদের থেকে টাকা না নিলে তাঁর ইজারার পুরো টাকাটাই লোকসান হবে। এজন্য তিনি জেলেদের থেকে কম-বেশি করে টাকা নিয়ে নদীতে মাছ ধরার অনুমতি দিচ্ছেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, নদী সরকারি সম্পদ। কোনো ব্যক্তি নদী ইজারা দিতে পারে না। বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তদন্ত করা হয়েছে। ইজারাদার, ইজারাগ্রহীতা ও স্থানীয় মৎস্যজীবীদের ডাকা হয়েছে। দ্রুত স্থানীয় মৎস্যজীবীদের এই নদীতে আগের মতো মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, এভাবে নদী ইজারা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে। অবিলম্বে মৎস্যজীবীদের সমস্যার সমাধান করা হবে।
সূত্র : সমকাল