এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি অভিযানে ৪৫ কেজি হরিণের মাংসসহ দুই অবৈধ মাংস ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী নলিয়ান বাজার ও দোয়ানিরগেট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড আউটপোস্টের সদস্যরা। রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক দুটি অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ওই দুই এলাকা থেকে ৪৫ কেজি হরিণের মাংসসহ দুইজন অবৈধ মাংস ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় হরিণের মাংস।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও অবৈধ শিকার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরিণ শিকার, মাংস পাচার ও বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জব্দ করা ৪৫ কেজি হরিণের মাংস এবং আটক দুই ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নলিয়ান ফরেস্ট অফিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচার রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের আধার। এই বনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পাশাপাশি চিত্রা হরিণসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণীর বসবাস। অবৈধ শিকার ও বন্যপ্রাণীর মাংসের ব্যবসা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। ফলে হরিণ শিকার ও মাংস পাচারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শুধু অভিযান নয়, বন্যপ্রাণী শিকারের সঙ্গে জড়িত চক্রের মূলহোতাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।