শিরোনাম
◈ টেকসই কৃষি-সবুজ শিল্পে ঋণ কমেছে, বেড়েছে টেকসই অর্থায়ন ◈ বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নির্দেশনা সরকারের ◈ বন্ধ কারখানার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী যে সুখবর দিলে ◈ সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও বিক্রিতে লাগবে বাবা-মায়ের সম্মতি: আইনমন্ত্রী ◈ শুধুমাত্র তারেক রহমানের মধ্যে পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি, আর কারও মধ্যে পরিবর্তন ঘটেনি: মির্জা ফখরুল(ভিডিও) ◈ অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতি, দ্বিতীয়ার্ধে ইউরোপে বাড়ছে ঝুঁকি ◈ জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ ◈ শ্রমবাজার খুলতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার ঐকমত্য, বাদ বিতর্কিত এজেন্সি ◈ ৮৬ ডেপুটি অ্যাটর্নি ও ১৭৯ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ ◈ পিপিপি মডেলে দুই মেগা সেতু নির্মাণে জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব, ব্যয় ৩৩ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত : ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০৮:০৯ রাত
আপডেট : ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খুলনাঞ্চলের ১৬ সড়ক উন্নয়নে আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব, যোগাযোগের পাশাপাশি শিল্পায়নেও খুলবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক  মহাসড়ক খুলনা অঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সমন্বিত প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার নগরঘাট থেকে আড়ুয়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন। এ সড়কের বিদ্যমান প্রস্থ বৃদ্ধি করে সার্ভিস রোড নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফুলতলা–মিকসিমিল–ডুমুরিয়া ৩৩ কিলোমিটার সড়ক, তেরখাদা–মোল্লারহাট সড়ক এবং বটিয়াঘাটা–পাইকগাছা সড়কের উন্নয়নও একই প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কও এ উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক বলেন, শুধু সেতু নির্মাণ করলেই যোগাযোগ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন সম্ভব নয়; সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নও সমানভাবে জরুরি। তিনি জানান, ১৬টি সড়কের উন্নয়নের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এ উপস্থাপন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, “যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে আমাদের পরিকল্পনার কোনো ঘাটতি নেই। তবে অর্থনৈতিক সক্ষমতার কারণে সব প্রকল্প একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। আমরা আশা করছি, এ প্রকল্পটি অনুমোদন পাবে এবং খুলনাঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক জানান, দিঘলিয়ার আড়ুয়া এলাকা দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলেও শিল্পায়নের জন্য এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তুলনামূলক কম দামে জমি, পর্যাপ্ত শ্রমশক্তি, কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং মোংলা বন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান এ এলাকাকে শিল্প বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নৌপথে দ্রুত পণ্য পরিবহনের সুবিধাও রয়েছে।

তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে আতাই নদীর ওপর আড়ুয়া সেতু নির্মাণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে সেতুটির সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে ভূমি অধিগ্রহণ ও সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে যশোরের নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলের সম্প্রসারণ এ অঞ্চলে ঘটানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে খুলনাঞ্চলের যোগাযোগ নেটওয়ার্কে গুণগত পরিবর্তন আসবে। এর ফলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, পণ্য পরিবহন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়