শিরোনাম
◈ টেকসই কৃষি-সবুজ শিল্পে ঋণ কমেছে, বেড়েছে টেকসই অর্থায়ন ◈ বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নির্দেশনা সরকারের ◈ বন্ধ কারখানার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী যে সুখবর দিলে ◈ সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও বিক্রিতে লাগবে বাবা-মায়ের সম্মতি: আইনমন্ত্রী ◈ শুধুমাত্র তারেক রহমানের মধ্যে পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি, আর কারও মধ্যে পরিবর্তন ঘটেনি: মির্জা ফখরুল(ভিডিও) ◈ অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতি, দ্বিতীয়ার্ধে ইউরোপে বাড়ছে ঝুঁকি ◈ জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ ◈ শ্রমবাজার খুলতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার ঐকমত্য, বাদ বিতর্কিত এজেন্সি ◈ ৮৬ ডেপুটি অ্যাটর্নি ও ১৭৯ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ ◈ পিপিপি মডেলে দুই মেগা সেতু নির্মাণে জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব, ব্যয় ৩৩ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত : ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০৭:১৭ বিকাল
আপডেট : ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে খানাখন্দে বিপর্যস্ত ৬ কিমি সড়ক, চরম দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর: ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের লক্ষীদাসের হাট থেকে চরনশিপুর, ভাসানচর ও অম্বিকাপুর হয়ে শহরের আলীপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ ও ভাঙা কিনারার কারণে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকেরা জানান, কয়েক মাস আগে লক্ষীদাসের হাট থেকে ওমেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে কাচারিটেক বেড়িবাঁধ পর্যন্ত সড়কের একটি অংশ সংস্কার করা হলেও ওমেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে হাজী পরস উল্লাহপাড়া হয়ে শাজাহান মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার অংশ সংস্কারের বাইরে রাখা হয়। বর্তমানে ওই অংশে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা পুরো সড়ককে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

একই অবস্থা অম্বিকাপুর ইউনিয়নের আনসার উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কেও। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় সেগুলো চোখে পড়ে না। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক চালক বাধ্য হয়ে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছেন, এতে সময় ও অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ বাড়ছে।

ওমেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আরিফা সুলতানা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয়। বৃষ্টির দিনে অনেক শিক্ষার্থী কাদায় পিছলে পড়ে আহত হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

অটোরিকশা চালক রিপন শেখ জানান, গুরুতর অসুস্থ রোগী বা প্রসূতি মাকে এই সড়ক দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে না পারায় রোগীদের অটোরিকশায় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে শিবরামপুর মহাসড়ক হয়ে ফরিদপুর শহরে নিতে হয়। এতে রোগীর ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি সময় ও ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়।

ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন মিয়া বলেন, ২০২৪ সালের শুরুতে সড়কটির সংস্কার হলেও রহস্যজনকভাবে প্রায় ৩০০ মিটার অংশ বাদ দেওয়া হয়। এছাড়া সংস্কারকাজের মানও সন্তোষজনক ছিল না। ফলে মাত্র দুই বছরের মধ্যে সড়কের বিভিন্ন স্থানে আবারও বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম জানান, আগেরবার কেন ৩০০ মিটার অংশ বাদ পড়েছিল তা জানা নেই। তবে চলতি অর্থবছরে ওই অংশসহ পুরো সড়ক সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বছরের শেষদিকে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সড়কটির সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়