ফরিদুল আলম দেওয়ান, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি : দুর্যোগপূর্ণ বৈরি আবহাওয়ার কবলে পড়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ৩৬ দিন ধরে গভীর বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় ভাসতে থাকা শ্রীলংকান পিতা পুত্র দুই জেলেকে জীবন মরণ বিপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করেছে কক্সবাজারের মহেশখালীর জেলেরা।
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের মালিকানাধীন ফিসিংবোট সাগরে মাছ ধরে ফেরার সময় গুলিরধার নামক স্থানে ইঞ্জিন বিকল ফাইবার বোট নিয়ে ভাসমান পিতাপুত্র দুই জেলেকে শুক্রবার সকালে উদ্ধার করে শনিবার কূলে নিয়ে আসে। উদ্ধারকৃত বিদেশি দুই নাগরিককে মহেশখালী থানায় অবহিত করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন বাংলাদেশস্ত্র শ্রীলঙ্কান দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে সে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। গত তিনদিন ধরে বিদেশি ওই দুই নাগরিক এবং ফিশিং ট্রলার দেখতে মহেশখালীর জেলে পল্লী কুতুবজোমে ভীড় জমিয়েছে উৎসুক জনতা।
উদ্ধারকারী ফিশিং বোট মালিক ও মাঝি জিয়াউর রহমান জানান, তিনি তার ফিশিং বোর্ড নিয়ে সাগরের মাছ ধরে ফেরার সময় দূরবর্তী স্থানে একটি ছোট্ট বোটকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে কাছে গিয়ে জানতে পারে তারা ৩৬ দিন ধরে বিকল নৌকা নিয়ে সাগরে ভাসতে ভাসতে বাংলাদেশে জলসীমায় এসে গেছে। প্রাথমিকভাবে তাদের ভাষা বুঝতে না পারলেও ভাসমান বিপদাপন্ন ওই দুই জেলে তাৎক্ষণিকভাবে আমার পায়ে ধরে তাদের উদ্ধার করে জীবন রক্ষার আকুতি জানায়। আমি তাদেরকে আমার বোটে তুলে নিয়ে সেবা ও খাবার দিয়ে তাদের বোটটি রশি দিয়ে বেঁধে শনিবার মহেশখালী উপকূলে নিয়ে আসি। তারা আমার বোটে ওঠার পর আমার মোবাইল নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় তাদের বাড়িতে খবর দেন।
তাদের আত্মীয়-স্বজন তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশস্থ শ্রীলংকান দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে আমার নাম্বারে ফোন দেন। দূতাবাস থেকে উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের নিকটস্থ থানায় নিয়ে যাবার পরামর্শ দিলে আমি তাদেরকে মহেশখালী থানায় নিয়ে আসি। ইতিমধ্যে তারা ইশারা ইঙ্গিতে আমাকে জানান, তারা চার জেলে ছোট ইঞ্জিন নৌকাটি নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে বেরিয়ে বৈরি আবহাওয়ার কবলে পড়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকে। একপর্যায়ে সতীর্থ দুইজন জেলে সাগরে অপর একটি ফিশিং ট্রলার দেখে পানিতে ঝাপ দিয়ে জীবন বাঁচায়। নিজেদের মালিকানাধীন নৌকাটিতে রয়ে গেল পিতা পুত্র দুজন। তারা দীর্ঘ ৩৬ দিন ধরে সাগরে ভাসমান অবস্থায় খাদ্যের অভাবে ক্ষুধার জ্বালায় সাগর থেকে বড় একটি মাছ ধরে কাঁচা মাছ খেয়ে জীবন বাঁচায়। অবশেষে আমাদের নজরে এসে উদ্ধারপ্রাপ্ত হন।
জানা যায়, উদ্ধারকৃত শ্রীলংকান দুই নাগরিক সম্পর্কে পিতা পুত্র এবং পেশায় জেলে। এদের মধ্যে এস এইচ চামিন্দা (৬৫) পিতা এবং তার ছেলে সাইন্ডু হামদিগিপিয়াওয়াত্তি (৪৫)। তারা শ্রীলংকার দক্ষিণ অঞ্চলীয় শহর ডেউয়ারা এলাকার কলরা হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুস সুলতান বলেন, সাগর থেকে ভাসমান অবস্থা হতে উদ্ধার করা শ্রীলংকান দুই জেলেকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের ব্যবহৃত ফিশিং বোট এবং উদ্ধারকৃত দুই নাগরিক থানার মাধ্যমে হেফাজতে রয়েছে। বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, সাগর থেকে উদ্ধারকৃত শ্রীলংকান দুই নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আসলে তাদের প্রত্যাবাসন করা হবে।