হাবিবুর রহমান, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার এক ব্যক্তিকে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে দুর্গাপুর উপজেলায় নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের আগিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে ইসমাইল হোসেন সোহেল একই উপজেলার হিড়িভিটা গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মো. নাঈম এর কাছে হাওলাত সূত্রে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পেতেন।
গত ২৪ জুলাই সকালে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে নাঈম সোহেলকে দুর্গাপুর উপজেলার তাতিরকোনা গ্রামে তার মামার বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর নাঈম, তার ভাই ইমরান, চাচা আব্দুল ছালাম, আবুল হাসিমসহ আরও কয়েকজন তাকে জোর করে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা নগদ ১১ হাজার ৩০০ টাকা এবং ব্যক্তিগত বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ২১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পরে কৌশলে অভিযুক্তদের একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সোহেল তার বন্ধু আব্দুল মোমেনকে বিপদের বার্তা পাঠান। মোমেন বিষয়টি সোহেলের স্ত্রী তমা আক্তারকে জানালে তিনি ২৫ জুলাই ঘটনাস্থলে গিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।
খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহেলকে উদ্ধার করে। পরে তার স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে মো. নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। অভিযোগের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।