শিরোনাম
◈ দেশের আট বিভাগে হচ্ছে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, বাড়বে সাইবার অপরাধ দমনের সক্ষমতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ভারতের আন্দোলনে পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশের তরুণরা: নেহা বোরা (ভিডিও) ◈ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে বড় পরিবর্তন, মেয়াদ শেষ হলেই বন্ধ কাজের সুযোগ ◈ আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ◈ রাজধানীর ধানমন্ডিতে বয়স্ককে মারধরের ভিডিও ভাইরাল, নেপথ্যে যে ঘটনা জানাগেল ◈ লাল কার্ড পে‌লেন ওলিস, ৬ গোলের রোমাঞ্চে বায়ার্ন মিউনিখ‌কে রুখে দিলো ভাইকিং ◈ রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনবে সরকার ◈ টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ২১ ইউনিটের ৪ ঘন্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে ◈ ওমান প্রবাসীদের জন্য জরুরি খবর! ◈ বাংলাদেশে ই-বর্জ্য থেকে বছরে ৫০ কোটি ডলারের সম্পদ উদ্ধারের সুযোগ, ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

প্রকাশিত : ২৫ জুলাই, ২০২৬, ০৭:২৪ বিকাল
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

“আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না” : কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষক মহসিন

শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা : কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসিনের আকস্মিক বদলিকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আবেগঘন পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই শিক্ষক। তার আবেগময় বক্তব্য ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আকুতি মুহূর্তেই উপস্থিত সবার মধ্যে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষক বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে শত শত শিক্ষার্থী অংশ নেন। তারা বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হন শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীদের আবেগঘন অবস্থান দেখে একপর্যায়ে নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না।”

পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। এমনকি আন্দোলন বন্ধ করার অনুরোধ জানাতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সামনে হাতজোড় করে আকুতি জানান বলেও উপস্থিতরা জানান।

Advertisement

মোহাম্মদ মহসিন বলেন, “এটি আমার চাকরিজীবনের একটি স্বাভাবিক বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে চাই না। তোমরা কেউ এমন কিছু করো না, যাতে আমার চাকরিজীবনে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়।” বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার কান্না দেখে অনেক শিক্ষার্থীও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা আমাদের কোনো শিক্ষকের প্রতি অন্যায় আচরণ মেনে নিতে পারি না। স্যার একজন সৎ ও জনপ্রিয় শিক্ষক। চাকরি হারানোর শঙ্কা থেকেই তিনি এতটা ভেঙে পড়েছেন। সামান্য জলাবদ্ধতার ঘটনায় একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে।”

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “এই মানববন্ধন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। কিন্তু আমাদের শিক্ষকদের ওপর যদি অন্যায়ভাবে কোনো চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে এই আন্দোলন শুধু কুমিল্লা মহিলা কলেজেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজন হলে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করবে।”

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, কলেজ প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতার জন্য শিক্ষকদের দায়ী করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। অবকাঠামোগত সমস্যা ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার দায় শিক্ষকদের ওপর চাপানো হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে ভারী বর্ষণে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবিতে তারা ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

শনিবারের (২৫ জুলাই) মানববন্ধনে শিক্ষক মহসিনের আবেগঘন বক্তব্য ও কান্নার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই ঘটনাটিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্তরিক সম্পর্কের বিরল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন, আবার কেউ কেউ শিক্ষা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।

  • সর্বশেষ