শিরোনাম
◈ দেশের আট বিভাগে হচ্ছে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, বাড়বে সাইবার অপরাধ দমনের সক্ষমতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ভারতের আন্দোলনে পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশের তরুণরা: নেহা বোরা (ভিডিও) ◈ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে বড় পরিবর্তন, মেয়াদ শেষ হলেই বন্ধ কাজের সুযোগ ◈ আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ◈ রাজধানীর ধানমন্ডিতে বয়স্ককে মারধরের ভিডিও ভাইরাল, নেপথ্যে যে ঘটনা জানাগেল ◈ লাল কার্ড পে‌লেন ওলিস, ৬ গোলের রোমাঞ্চে বায়ার্ন মিউনিখ‌কে রুখে দিলো ভাইকিং ◈ রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনবে সরকার ◈ টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ২১ ইউনিটের ৪ ঘন্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে ◈ ওমান প্রবাসীদের জন্য জরুরি খবর! ◈ বাংলাদেশে ই-বর্জ্য থেকে বছরে ৫০ কোটি ডলারের সম্পদ উদ্ধারের সুযোগ, ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

প্রকাশিত : ২৫ জুলাই, ২০২৬, ০৭:১২ বিকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৮০ বছরের বৃদ্ধার বয়স্কভাতার কার্ড কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা : স্বামী নেই, পুত্রসন্তানও নেই। তিন মেয়ের মধ্যে বড় ও দ্বিতীয় মেয়ের স্বামীও মারা গেছেন। বয়সের ভারে নতজানু ৮০ বছরের বৃদ্ধা সাহেরা বেগম। জীবনের শেষ সময়ে এসে সরকারি বয়স্কভাতার ওপরই ছিল তার একমাত্র ভরসা। তবে সেই ভাতার কার্ড কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।

সাহেরা বেগম কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের গুঞ্জর গ্রামের রমিজ উদ্দিন হাজী বাড়ির মৃত আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। স্বামী মারা যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন তিনি। ভিটেবাড়ি বলতে তেমন কিছু নেই। জরাজীর্ণ একটি ঘরেই বসবাস তার। কেউ খাবার দিলে খান, না দিলে অনেক সময় অভুক্ত থাকতে হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাহেরা বেগমের কোনো ছেলে সন্তান নেই। তার তিন মেয়েই বিবাহিত। বড় ও দ্বিতীয় মেয়ের স্বামী মারা যাওয়ায় তারাও নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। ফলে বৃদ্ধ বয়সে সাহেরা বেগমের দেখাশোনার জন্য নির্ভর করার মতো তেমন কেউ নেই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাহেরা বেগম বলেন, ‘স্বাধীনতার দুই বছর পর আমার স্বামী মারা যান। এত বছরেও আমি কোনো বিধবা ভাতার কার্ড পাইনি। ২০১০ সালে রঞ্জু মেম্বার আমাকে একটি বয়স্কভাতার কার্ড করে দেন। প্রায় ১০ বছর ভাতা পেয়েছি। কিন্তু ২০২০ সালে জাহাঙ্গীর মেম্বার দায়িত্বে আসার পর থেকে আর ভাতা পাইনি।’

Advertisement

তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুব অসহায়। বয়স হয়ে গেছে। এখন কাজ করার শক্তি নেই। কেউ দিলে খাই, না দিলে না খেয়ে থাকি। হাজী বাড়ির বউ হওয়ায় মানুষের কাছে হাত পেতে কিছু চাইতেও পারি না।’

এ বিষয়ে নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নেরগুঞ্জর 
১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া বলেন , ‘জাহাঙ্গীর মেম্বার তার ভাতার কার্ড  নিয়েছেন বিষয়টি সঠিক। কার্ডটি তিনি কি করছেন তা বলতে পারিনা।  সাহেরা বেগম অনেক  অসহায়৷ তার কার্ড খুবই প্রয়োজন।  

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে বলেন, ‘বয়স্কভাতার কার্ড ইউপি সদস্যের নিয়ে নেওয়ার কোনো বিধান নেই।’

তিনি কম্পিউটারে সাহেরা বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য যাচাই করে জানান, সেখানে তার বয়স্কভাতার কার্ডের কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। কীভাবে তার ভাতার কার্ডের তথ্য উধাও হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেন, ‘হয়তো ২০২০ সালে তৎকালীন ইউপি সদস্য কার্ডটি অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করেননি।’

  • সর্বশেষ