জিয়া উদ্দিন সিদ্দিকী, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের দুই পাশে আমতলী পৌর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে হাট বসেছে। এতে সাপ্তাহিক হাটের দিন (বুধবার) তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ভোগান্তিতে পরেছে পরিবহন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। কিন্তু উপজেলা ও পৌর প্রশাসন এ হাট বন্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দ্রুত এ হাট বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী গাড়ী চালক ও ভুক্তভোগীদের। নইলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেছেন তারা।
জানা গেছে, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে আমতলী একে স্কুল চৌরাস্তা থেকে বাঁধঘাট চৌরাস্তা পর্যন্ত দের কিলোমিটার স্থান জুড়ে হাট বসছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সহস্রাধীক গাড়ী চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। ফলে সড়কে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনা। আমতলী উপজেলা ও পৌর প্রশাসন বিষয় দেখে তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না এমন অভিযোগ গাড়ী চালক মহসিন ও সালামের। অভিযোগ রয়েছে আমতলী পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে সড়কে হাট বসায় বিষয়টি জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কিন্তু তারা ওই হাট থেকে রাজস্ব আদায় করছে। অপর দিকে তীব্র যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, মহাসড়কের আমতলী একে স্কুল চৌরাস্তা, বটতলা, বাধঘাট চৌরাস্তার দুই পাশে কাঁচা বাজার,ধান, মাছ বাজারসহ বিভিন্ন নিত্যপন্য সামগ্রী নিয়ে ব্যবসায়ীরা বসেছেন। মহাসড়কের দুইপাশে হাট বসায় গাড়ী চলাচল করতে পারছে না। ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পরিবহন বাস, মিনি বাস, ট্রাক ও মাহেন্দ্রসহ শতাধিক যানবাহন সড়কে আটকা পরেছে। এতে ভোগান্তিতে পরেছে গাড়ীর যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে প্রতি বুধবার হাটবারে দিন ব্যাপী যানজট লেগেই থাকে কিন্তু ট্রাফিক টহল না থাকায় যানজট আরো তীব্র আকারে ধারন করছে। ক্রেতারা সড়কে দাড়িয়ে বিক্রোতাদের কাছ থেকে পন্য ক্রয় করছে।
শিবলী শরীফ বলেন, আমতলী একে স্কুল চৌরাস্তার যানজট ঢাকাকেও হার মানিয়েছে। কিন্তু এতে ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় বেশ বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। দ্রুত সড়কের পাশে হাট অপসারণ করে মানুষের কষ্ট লাঘবের দাবী তার।
অটোচালক মোঃ জয়নাল আবেদীন ও শাহীন বলেন, একে স্কুল চৌরাস্তা এবং বাঁধঘাট চৌরাস্তা ও বটতলায় যানজটে পরলে অন্তত এক ঘন্টা লেগে যায়। সড়কের পাশে হাট বসানোর কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা আরো বলেন, যানজটের কারনে সাধারণ মানুষও সড়ক পাড় হতে পারে না।
বাস চালক মহিউদ্দিন মহসিন ও আলমগীর হোসেন বলেন, মহাসড়কের পাশে এ ভাবে হাট বসায় কষ্টের শেষ থাকে না। যানজটের কারনে দীর্ঘ সময় পাড় হয়ে যায়। ফলে যাত্রীদের বেশ ভোগান্তি হয়। দ্রুত আমতলী একে স্কুল চৌরাস্তা, বটতলা ও বাঁধঘাটে চৌরাস্তা থেকে হাট অপসারণ করে সড়ক পথ উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবী জানান তারা।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, দ্রুত লোক পাঠিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, সড়কের পাশ থেকে হাট অপসারণ করা হবে।