কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জার টেক এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় তিনটি সিএনজি অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনায় বাঁশখালীর বৈলছড়ী ইউনিয়নের সিএনজি চালক দোলন দে (সুমন) নিহত হয়েছেন। এছাড়া অপর দুই চালক রুবেল ও জোনাইদ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় দ্রুতগতির একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরপর তিনটি সিএনজিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দোলন দে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত রুবেল ও জোনাইদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে। নিহত দোলন দে (সুমন) বৈলছড়ী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
সংসারে তার স্ত্রী এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে এবং এলাকায় একজন শান্ত, নম্র ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে জানান স্থানীয় সমাজকর্মী ঝুন্টু কুমার দাশ।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সিএনজি চালক দোলন দাশ ঋষি অদ্বৈতানন্দ পরিষদ বাঁশখালী উপজেলা শাখার কার্যকরী সদস্য ও ঐতিহ্যবাহি ঋষিধামের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন ।
নিহতের মরদেহ গ্রহণ এবং আহতদের খোঁজখবর নিতে বৈলছড়ী ইউনিয়ন থেকে একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে যান সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল আলীম বৈলছড়ী সিএনজি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয়রা দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।