ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক রাতে ৮ টি গরু চুরিসহ প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা বাড়ছেই। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে চোরেরা উপজেলার পৃথক তিনটি গ্রাম থেকে ওই গরুগুলি চুরি করে নিয়ে গেছে।
একইভাবে গত দু’সপ্তাহ আগেও আরো ১০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এভাবে একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক ও খামারীরা।
জানাগেছে, শুক্রবার গভীর রাতে পৌর এলাকার বলিদাপাড়া গ্রামের খামারী রবিউল ইসলামের ৩ টি গরু চুরি হয়। ভূক্তভোগী জানায়, তার খামারে ছোট বাছুরসহ ৪টি গরু ছিল। চোরেরা রাতে খামারের তালা ভেঙ্গে ছোট বাছুরটি রেখে ৩টি বড় গরু নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ওই তিনটি গরুই আমার সম্বল। দুধ বিক্রি করেই চলত সংসার। এখন আমার সব শেষ। তারই প্রতিবেশি কালীগঞ্জ পৌর কৃষক দলের আহব্বায়ক ফোরকান আলী জানায়, খামারী রবিউল নিঃশ্ব হয়ে গেছে। সংঘবদ্ধ গরু চোরেদের প্রতিরোধে প্রশাষনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একই রাতে উপজেলার আগমুন্দিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান ও তার চাচাত ভায়ের ৩টি এবং পার্শ্ববর্তী মেকুরখির্দ্দা গ্রামের সুমন মাষ্টারের ১টি গরু চুরি হয়েছে।
এর আগের রাতেও চোরচক্র একটি পিকাপ গাড়ী এনে পৌর এলাকার ইশ্বরবা গ্রামের আইয়ুব হোসেনের গোয়ালঘর থেকে একটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। পরদিন এই চুরির ঘটনাটির সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই ভিডিও ফুটেজে মুখোশ বিহিন চোরেদের ছবি দেখা গেলেও পুলিশ প্রশাষন এখনো তাদের সনাক্ত করতে পারেনি। উল্লেখ্য, গেল ২৭ জুন উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের ভাদঘরা ও আগমুন্দিয়া গ্রাম থেকে ১০ টি গরু চুরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চোরচক্র গরু চুরি করে পিকআপ ও ট্রাকে করে বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে তারা প্রশাসনকে জানালেও প্রতিকার পাচ্ছেন না।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ জেল্লাল হোসেন জানান, গরু চুরি রোধে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে চোরসহ ২টি ছাগল আটক হয়েছে। গরু চোরচক্র আটকে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।