শিরোনাম
◈ মগবাজার পেয়ারাবাগে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও চার লেন রেলপথের কাজ চলতে বাধা নেই ◈ মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস ◈ ইসরায়েলে ইনটেলের সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় বিস্ফোরণ, ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ◈ স্কুলে ভর্তিতে বয়স নির্ধারণ, কোন শ্রেণিতে কত বছর হতে হবে যা জানাগেল ◈ কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর-হামলা ◈ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ইতালি, বাংলাদেশে গড়তে চায় এমআরও হাব ◈ রাশিয়ার পর বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নজর ◈ বুক কাঁপছে আতঙ্কে, তবু থামছে না জীবিকার লড়াই : জীবিকার টানে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা ◈ রাত গভীর হলেই বাড়ে বিদ্যুতের চাহিদা, ৩ হাজার মেগাওয়াট যাচ্ছে কোথায়?

প্রকাশিত : ১১ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৩৭ বিকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এক পা হারিয়েও বিশ্বস্ততায় অনন্য! আম বাগান পাহারায় চাষী আলিমের ‘লালু-কালু’

শাহরিয়ার শাওন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: বিশাল আমের বাগান। চারদিকে গাছে গাছে ঝুলছে নানা জাতের বিদেশী রঙিন আম আর বারি-৪। প্রায় ১০ বিঘা জমির এই বিশাল মিশ্র আম বাগান পাহারায় কোনো মানুষ নয়, বরং দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত রয়েছে দেশী জাতের দুটি বিশ্বস্ত কুকুর। নাম তাদের ‘লালু’ আর ‘কালু’। নওগাঁ পৌর এলাকার আনন্দনগর বাগবাড়ি এলাকায় এক পা হারানো ‘লালু’ ও তার সঙ্গী ‘কালু’র এমন রাজকীয় বিশ্বস্ততা ও সাহসিকতা এখন পুরো এলাকায় অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

বাগান মালিক আব্দুল আলিম জানান, শৈশবে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে পরম যত্নে এই ছানা দুটিকে তিনি নিয়ে এসেছিলেন। সময়ের সাথে সাথে তারা হয়ে উঠেছে পরিবারেরই অংশ। এক দুর্ঘটনায় লালু এক পা হারালেও বাগান রক্ষায় তার সাহসিকতায় কমতি নেই একটুও। একটি লাল-সাদা রঙের লালু, অন্যটি কালো-সাদা কালু। ১০ বিঘা জমির এই আম বাগানে কাজ করার জন্য কর্মচারী থাকলেও, পাহারাদার হিসেবে এই দুই চতুষ্পদ প্রাণীর ওপরই শতভাগ ভরসা বাগান মালিকের।

আব্দুল আলিম আর বলেন,শুধু বাগান পাহারা নয়, আলিমের মেয়ের সঙ্গী হয়ে তাকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া কিংবা বিকেলে খেলাধুলা সবখানেই আছে এই দুই বিশ্বস্ত সঙ্গী। লালু আর কালু থাকায় পাহারাদারের বাড়তি কোনো খরচই লাগছে না। বিশাল এই বাগানে পাহারাদারের পেছনে যে বেতন দিতে হতো, তা বেঁচে যাচ্ছে। শুধু পাহারাই নয়, পরিবারের সদস্যরা যা খান, লালু-কালুর পাতেও জোটে সেই একই খাবার। এদের হিংস্রতা কমাতে মাঝে মাঝে সেদ্ধ মাংস দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত টিকাসহ সব ধরণের যত্নও নেওয়া হয় তাদের। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাগানে ঢুকতে গেলে আগে এই কুকুর দুটির বাধার মুখে পড়তে হয়। পরিবারের কেউ আসলে তারপরই কেবল ভেতরে ঢোকা যায়। চতুষ্পদ এই প্রাণীর এমন রাজকীয় বিশ্বস্ততায় মুগ্ধ প্রতিবেশীরাও।

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি অফিসার ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, একসময় কুকুর পালন শহরকেন্দ্রিক ও শৌখিনতার বিষয় হলেও, এখন গ্রামীণ অর্থনীতি ও সুরক্ষায় মানুষ কুকুর পালন করছে। বাৎসরিক জলাতঙ্ক টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিলে এদের মাধ্যমে মানুষের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। নিয়মিত ভ্যাক্সিনেশন ও যত্ন নিলে এগুলো মানুষের জন্য শতভাগ নিরাপদ ও উপকারী।

সঠিক যত্ন আর ভালোবাসা পেলে হিংস্র প্রাণীও যে মানুষের পরম বন্ধু এবং বিশ্বস্ত পাহারাদার হয়ে উঠতে পারে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নওগাঁর এই ‘লালু’ আর ‘কালু’।

  • সর্বশেষ