শিরোনাম
◈ বিদেশে ইউনূস-আখতার-বাঁধনসহ বাংলাদেশিদের হেনস্তা, প্রশ্নের মুখে দূতাবাসের ভূমিকা ◈ চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ, ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনের মৃত্যু ◈ ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন ট্রেন, ভারত থেকে আসছে ২০০ কোচ; প্রথম চালানে এল ১৮টি, থাকছে বেবি কেয়ার রুম ও প্রার্থনাকক্ষ ◈ ভিউ-লাইক আর টাকার লোভে অন্যকে অপমান, বিবেক কোথায় আমাদের? এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত: মেহজাবীন চৌধুরী ◈ পশু জবাই নিয়ে বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি, দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের ◈ হালান্ডের রেকর্ডের রাতেও ইতিহাদে পিএসজির জয় ◈ এক পদে দুই বেতন, ফিফা সভাপ‌তি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন বিতর্ক ◈ নারীদের প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদে আফগান লিগ ছাড়লেন তিন ইংলিশ ক্রিকেটার ◈ ধরা পড়ে কিশোররা, আড়ালে থেকে যায় ‘বড়ভাইয়েরা’: অপরাধ থামবে কীভাবে ? ◈ চট্টগ্রাম বন্দরে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে চায় নেদারল্যান্ডস

প্রকাশিত : ৩০ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ রাত
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রবাসের স্বপ্ন ভেঙে কফিনে ফেরা, কানাইঘাটে পাঁচজনের দাফন

সারিবদ্ধ অ্যাম্বুলেন্স। অপেক্ষা শুধু পাঁচটি কফিনের। আর সেই কফিনগুলোর একটিতে থাকা বাবাকে শেষবারের মতো দেখার আশায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গেটে দাঁড়িয়ে দুই ভাই-বোন। তাদের চোখে ছিল না কান্নার ভাষা, ছিল শুধু একটি আকুতি- ‘আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৮টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে আসে এক নীরবতা। স্বজন হারানোর বেদনায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। অপেক্ষা ছিল গত ২১ জুন কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরার।

ঘড়ির কাঁটা যখন সকাল ৮টা, তখন একে একে বিমান থেকে নামানো হচ্ছিল পাঁচজনের কফিনভর্তি মরদেহ। সিলেটের কানাইঘাটের মানুষের জন্য একসঙ্গে পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ গ্রহণ ছিল এক নজিরবিহীন শোকের মুহূর্ত। অনেক স্বজনই বাকরুদ্ধ হয়ে শুধু প্রিয়জনের কফিনের দিকে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন।

জানা গেছে, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে মরদেহগুলো দেশে আনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারের সার্বিক সহযোগিতার কারণে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে।

Advertisement

বিমানবন্দর থেকে যখন অ্যাম্বুলেন্সগুলো নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়, তখন শোক যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে। গ্রামের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। জীবিকার তাগিদে প্রবাসে যাওয়া পাঁচজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু তাদের পরিবারকেই নয়, শোকাহত করেছে পুরো কানাইঘাটবাসীকে।

পরবর্তীতে জোহরের নামাজের পর স্থানীয় গাছবাড়ি মাযাহিরুল উলূম কওমি মাদরাসা প্রাঙ্গণে পাঁচ প্রবাসীর যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। হাজারো মানুষ এই জানাজায় অংশ নিয়ে নিহতের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। জানাজায় ইমামতি করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান। জানাজা শেষে মরদেহগুলো নিজ নিজ পঞ্চায়েতি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

প্রবাসে স্বপ্নের সন্ধানে যাওয়া পাঁচটি প্রাণ শেষ পর্যন্ত ফিরল কফিনবন্দী হয়ে। তাদের এই করুণ বিদায় শুধু পাঁচটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার মানুষের জন্য এক বেদনাময় স্মৃতি হয়ে রইলো।