শিরোনাম
◈ হঠাৎ টানা ভারী বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, হাজারো মানুষের দুর্ভোগ ◈ সরকার কেন এখন কলেরার টিকা দিচ্ছে? এই টিকার কি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে? ◈ ম্যাকাই টেস্টে ভয়াবহ বিপর্যয়, ১২ রানেই ৫ উইকেট হারাল বাংলাদেশ ◈ ধেয়ে আসছে শক্তিশালী এল নিনো, ২০২৭ হতে পারে ইতিহাসের উষ্ণতম বছর ◈ স্থানীয় সরকারে মঈন খান: অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সামনে বড় পরীক্ষা ◈ ছাত্র অবস্থায় এমপি, দুই দশক পর প্রতিমন্ত্রী শামীম লিংকন ◈ দুই প্রতিমন্ত্রী এক মন্ত্রণালয়ে ◈ ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর মিছিল, ৬ মাসে ১০০ জনের মৃত্যু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়  ◈ প্রথমবার পূর্ণমন্ত্রী হওয়া রশিদুজ্জামান মিল্লাতের রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে ◈ মন্ত্রিসভায় রদবদলের প্রজ্ঞাপন জারি: কে কোন মন্ত্রণালয়ে

প্রকাশিত : ২২ জুন, ২০২৬, ০৯:১৬ রাত
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাজশাহীতে নারীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে জখম, স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার বাজে কাজলা এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে এক নারীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, বসতবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই নারী বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন।

সোমবার (২২ জুন) বিকেল ৪টায় রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মোসা. শিলা খাতুন (৩৮)। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে তিনি রোববার মতিহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে শিলা খাতুন জানান, এলাকার একটি রাস্তা সংস্কারের অংশ হিসেবে সুরকি দেওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ২০ জুন সকালে তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

তার দাবি, ওইদিন সকাল ৯টার দিকে বাজে কাজলা এলাকায় মো. খাজদার আলীর বাড়ির সামনে তার ভাগনে মো. বাপ্পীকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে পারভেজ আলী স্বপন, তার ভাই রিপন আলী, ছেলে শাহি এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় বাপ্পী গুরুতর আহত হলে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

শিলা খাতুন বলেন, ঘটনার পর তিনি কর্মস্থলে চলে গেলে অভিযুক্তরা তার অনুপস্থিতির সুযোগ নেয়। একই দিন দুপুরে তারা সংঘবদ্ধভাবে তার বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও হামলা চালায়। বাড়িতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন বলে দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রিকশাযোগে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় লোহার রড, জিআই পাইপসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে মাটিতে ফেলে নির্মমভাবে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। হামলার সুযোগে তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, হাতে থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের ব্রেসলেট, ব্যক্তিগত ব্যাগ এবং ব্যাগে থাকা ১০ হাজার টাকা নগদ নিয়ে যায় হামলাকারীরা।

শিলা খাতুন জানান, আহত অবস্থায় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।
তবে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পরও হুমকি-ধমকি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

তার দাবি, অভিযুক্তরা পুনরায় অজ্ঞাতনামা লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয় এবং তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, সামান্য বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগে সেফালী বেগম ও ঝরনা বেগমসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির নাম সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের দাবি, হামলার ঘটনাটি এলাকাবাসীর সামনেই ঘটেছে এবং অনেকেই তা প্রত্যক্ষ করেছেন।

এ বিষয়ে মতিহার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিলা খাতুন বলেন, “আমি একজন অসহায় নারী। আমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। আমার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

ঘটনা অস্বীকার করে অভিযুক্ত পারভেজ আলী স্বপন বলেন, যখনের কথা বলা হচ্ছে তখন আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমি রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ছিলাম। আমরা কারো গায়ে হাত তুলিনি বরং তারা আমার ভাইকে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে আমি সংবাদ সম্মেলন করতে চাই বলে জানান তিনি।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, শুধু শিলা খাতুন নয় তার প্রতিপক্ষও একটি অভিযোগ করেছেন। আমরা দুটো অভিযোগ আমলে নিয়ে কাজ করছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে যিনি দোষী তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়