শিরোনাম
◈ সমুদ্রের পাশে ২০০ হেক্টরের মেগা পার্ক, বদলে যাচ্ছে এথেন্সের পুরোনো বিমানবন্দর ◈ দিল্লিকে ঢাকার কঠিন শর্ত: নেপথ্যে ‘অবিশ্বাস’, নাকি সম্পর্কের ‘রিসেট’ চায় ঢাকা? ◈ জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনিযুক্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শ্রদ্ধা ◈ কলেরার টিকা দেওয়া শুরু: কারা পাবেন, কারা পাবেন না ◈ ৬৪ রানে অলআউট হয়ে গেলো বাংলাদেশ ◈ ক্ষমতায় ছয় মাসেও আস্থাভাজন কর্মকর্তা খুঁজতে হিমশিম বিএনপি সরকার! ◈ ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন ◈ দেশের হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিকের ৯১% ‘ওয়াচ’ শ্রেণির, বাড়ছে প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি! ◈ 'সুন্দরপুর-১ কূপ থেকে গ্যাস তোলা যাবে টানা ২০ বছর, দৈনিক মিলবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট'(ভিডিও) ◈ ইসরায়েলপন্থিদের কোটি ডলারের প্রচারণা পেরিয়ে জয়ী ফিলিস্তিনপন্থি আয়েশা!

প্রকাশিত : ১৮ জুন, ২০২৬, ০৮:৩৫ রাত
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মিরসরাইয়ে মাটি কাটতে গিয়ে পাহাড় ধ্বসে কিশোর নিহত

জুয়েল নাগ, মিরসরাই, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পাহাড় ধ্বসে মাটি চাপা পড়ে সায়েম চৌধুরী (১৩) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। নিহত সায়েম উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ঘেড়ামারা বড়থলি এলাকার মৃত বশির মিয়ার ছেলে। বুধবার রাত আটটায় পাহাড় ধ্বসের দুই ঘন্টা পরে মাটি সরিয়ে সায়েমের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দারা। এই দুর্ঘটনায় সোহেল রানা (৮) নামের আরেক শিশু মাটি চাপায় আহত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও বন কর্মকর্তারা জানান, ঘেড়ামারার বড় থলি এলাকা বন বিভাগের সংরক্ষিত এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় সেখানে পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি তৈরি করা হচ্ছে। নিহত সায়েমের পরিবার দুই মাস আগে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলা থেকে এসে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় সংরক্ষিত বনের জায়গায় পাহাড়ের পাশে বাঁশের বেড়া ও টিন দিয়ে ছোট একটি ঘর তৈরি করে। সায়েম অটোরিক্সা চালিয়ে  ও রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাতো। তার মা সালেহা বেগম মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করেন। বড় দুই বোনের বিয়ে হয়েছে আগে। কিছুদিন আগে থেকে ঘর সম্প্রসারণ করতে পাশের পাহাড় কেটে মাটি তুলে ভিটা তৈরি করছিল সায়েম ও তার মা। বুধবার রাতে অটোরিক্সা চালানো শেষে বাড়ি এসে পাহাড় কেটে মাটি তোলার কাজ করছিল সায়েম। এ সময় বাড়ির আশপাশের কিছু শিশু সেখানে এসে লুকোচুরি খেলছিল। রাত আটটার দিকে সেখানে হঠাৎ খাড়া পাহাড়ের উপরের অংশ ধ্বসে পড়ে। এ সময় সায়েম ও তার প্রতিবেশী শিশু সোহেল রানা মাটি চাপা পড়ে। পাহাড় ধ্বসের পর হইচই পড়ে গেলে প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এসে মাটি সরিয়ে প্রথমে সোহেল রানাকে আহত অবস্থায় ও রাত দশটায় সায়েম চৌধুরীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। আহত সোহেল রানাকে বারিয়ারহাট পৌর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এলাকার বাসিন্দা  মিলি আক্তার  বলেন, সায়েম ও আমাদের পাশাপাশি ঘর। বুধবার অটোরিক্সা চালানো শেষে বাড়ি এসে সন্ধ্যার পর থেকেই ঘরের পাশের পাহাড় খুঁড়ে একটি অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র ভরে মাটি ফেলে ঘরের ভিটা ভরাট করছিল সে। তখন সেখানে আশপাশের ঘরের কিছু শিশু লুকোচুরি খেলছিল। রাত আটটার দিকে পাহাড় ধ্বসের আওয়াজ শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সায়েম ও পাশের ঘরের আরেক শিশু মাটি চাপা পড়েছে। হইচই পড়লে স্থানীয় লোকজন এসে মাটি খোঁড়া শুরু করে প্রথমে শিশু সোহেল রানাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পাহাড় ধ্বসের দুই ঘন্টা পর রাত দশটায় মাটির গভীর থেকে সায়েম চৌধুরীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কিশোর হলেও ছেলেটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় জানাযা শেষে সায়েম চৌধুরী দাফন সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের করেরহাট রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহাদি হাসান  বলেন, বুধবার রাতে ঘেড়ামারা বড়থলি এলাকায় সংরক্ষিত বনে পাহাড় কেটে ঘর ভিটা তৈরীর সময় পাহাড় ধ্বসে এক কিশোরের মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। ওই সমস্ত এলাকায় অবৈধ বসতি স্থাপন ও পাহাড় কাটা বন্ধে প্রায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ইন্দনে সংরক্ষিত বনে এসব অবৈধ বসতি তৈরি হচ্ছে। আমরাও সেখানে মামলা দেয়া ও নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম বলেন, ঘেড়ামারা বড়থলি এলাকায় পাহাড় ধ্বসে পড়ে এক কিশোরের মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। রাতে সেখানে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়