শিরোনাম
◈ বঙ্গভবনে প্রথম দিনের দাপ্তরিক কাজ শুরু নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির ◈ প্রাথমিক শিক্ষায় মনিটরিং-জবাবদিহিতায় আসছে নতুন নীতিমালা ◈ রাজধানীতে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য ◈ আইসি‌সি র‌্যা‌ঙ্কিং‌, টেস্ট ক্রিকে‌টে বাংলাদেশ এখন ৬ নম্বর দল ◈ রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ চলতি সপ্তাহে সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ ◈ দ্বিতীয় টে‌স্টে নাকাল বাংলাদেশ, টাইগার‌দের বিধ্বস্ত করে জিতলো অস্ট্রেলিয়া ◈ বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত, যাত্রা শুরু ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’র ◈ ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ২৬ আগস্ট ছুটি পাবেন না যারা ◈ একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশিত : ০২ জুন, ২০২৬, ০৫:৩৪ বিকাল
আপডেট : ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মা ও স্ত্রীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদকে শেষ বিদায় জানাতে মঙ্গলবার (২ জুন) ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেমেছিল মানুষের ঢল। দুপুর আড়াইটায় অনুষ্ঠিত জানাজার নামাজে অংশ নিতে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও চরাঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ মাঠে জড়ো হতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠ, আশপাশের সড়ক ও জনপদ মানুষের পদচারণায় পূর্ণ হয়ে যায়।

তোফায়েল আহমেদকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ, যুবক, ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, অনেকের কণ্ঠে ছিল স্মৃতিচারণ। পুরো ভোলা যেন পরিণত হয়েছিল এক বিশাল শোকমিছিলে।

জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে এই বর্ষীয়ান নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এর আগে মরহুমের কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দল, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। একের পর এক ফুলে ঢেকে যায় প্রিয় নেতার কফিন।

নামাজে জানাজার আগেই  উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত হাজারো মানুষ গভীর শ্রদ্ধা ও নীরবতার মধ্য দিয়ে তাকে সম্মান জানান।

বিপুল জনসমাগমের কারণে শুরু থেকেই প্রশাসন ও আয়োজকদের মধ্যে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ ছিল। তবে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও মানুষের সচেতন অংশগ্রহণের কারণে পুরো অনুষ্ঠান অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সমন্বয়কারীরা বারবার উপস্থিত জনতার প্রতি শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানান। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বারবার মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলেন, 'এটি কোনো একক রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়; এটি একজন জাতীয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত রয়েছেন। তাই কেউ যেন কোনো ধরনের দলীয় স্লোগান দিয়ে পরিবেশকে বিতর্কিত না করেন।'

তার এই আহ্বানে উপস্থিত জনতা সাড়া দেন। বিপুল জনসমাগম থাকা সত্ত্বেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, বিশৃঙ্খলা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও সবাই মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একত্রিত হন, যা ভোলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।

এ সময় ভোলার রাজনৈতিক ইতিহাসের আরও কয়েকজন প্রখ্যাত নেতার অবদানও স্মরণ করা হয়। বক্তারা মরহুম মোশারেফ হোসেন শাহজাহান, নাজিউর  রহমান মঞ্জুসহ ভোলার রাজনীতির বরেণ্য ব্যক্তিদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

জানাজা শেষে তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মা ও প্রয়াত স্ত্রীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় এই বর্ষীয়ান নেতাকে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়