শিরোনাম
◈ তারেক রহমানের সফর অনিশ্চিত, কোন পথে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক? ◈ বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেনে বড় লাফ ◈ ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন হ্যাকারদের, ডলার দাবি ◈ হাদি হত্যাকাণ্ড: পরিকল্পনা থেকে দেশত্যাগ, তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ◈ অতিরিক্ত আইজিপি হলেন পাঁচ কর্মকর্তা ◈ জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ◈ চিনিতে লোকসান গুনেও অ্যালকোহলে ১৬৫ কোটি টাকা মুনাফা কেরুর ◈ গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকারদের জন্য নতুন অধিদপ্তর গঠনের সিদ্ধান্ত ◈ দুই বছর পর খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, কম খরচে ২৫ এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর নতুন উদ্যোগ ◈ ব্রাজিল ফুটবল দল বাংলাদেশের বিরু‌দ্ধে খেলতে চায়

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২৬, ০৬:৩৮ বিকাল
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভ্রাম্যমাণ গাছের ব্যবসা, সবুজ স্বপ্নে মেতে উঠছেন মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর শহর ও আশপাশের এলাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভ্রাম্যমাণভাবে ফুল, ফল ও শৌখিন গাছ বিক্রির কার্যক্রম। একসময় এসব গাছ মূলত ভ্যানে করে বিক্রি হলেও এখন মিনি পিকআপে সাজিয়ে আকর্ষণীয়ভাবে বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে নানা ধরনের গাছের চারা। এতে যেমন শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও সহজেই নিজের পছন্দের গাছ কিনে বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদবাগান সাজানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে ফরিদপুর শহরের আলিপুর মোড়ে দেখা যায়, একটি মিনি পিকআপে করে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ বিক্রি করছেন মো. রোশন নামের এক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা। পুরো পিকআপজুড়ে ছিল রঙিন গোলাপ, ক্যাকটাস, বনসাই, ঝাউগাছ, মানিপ্ল্যান্ট, বারোমাসি ফুলগাছসহ নানা ধরনের শৌখিন গাছের সমাহার। পাশাপাশি ফলের চারার মধ্যেও ছিল পেয়ারা, মালটা, কমলা, সফেদা, পেঁপে, করমচা ও লেবুর গাছ।

গাছ বিক্রেতা মো. রোশন জানান, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে তিনি গাছ বিক্রি করেন। মানুষের মধ্যে এখন গাছ লাগানোর আগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “অনেকে বাড়ির ছাদে বাগান করছেন, আবার কেউ কেউ শখ করে বাসার বারান্দা সাজাচ্ছেন। তাই ফুল ও ফলের গাছের চাহিদাও বাড়ছে।”

তিনি আরও জানান, তার কাছে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গোলাপ গাছ ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের ক্যাকটাসের দাম ১০০ থেকে ৫০০ টাকা, ঝাউগাছ ২০০ টাকা এবং গেলপ্রিনিয়া বারোমাসি ফুলগাছ ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও ৭ থেকে ৮ প্রজাতির গোলাপের চারা রয়েছে, যেগুলোর দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতা জানান, বর্তমানে পরিবেশ দূষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মানুষ গাছ লাগানোর গুরুত্ব বেশি উপলব্ধি করছেন। বিশেষ করে শহরের মানুষ এখন ছাদবাগান ও ইনডোর প্লান্টের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ গাছের দোকান তাদের কাছে বেশ সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। অনেকেই বাজার করতে বেরিয়ে সহজেই প্রয়োজনীয় গাছ কিনে নিতে পারছেন।

ক্রেতা শাহিনুর রহমান বলেন, “আগে নার্সারিতে গিয়ে গাছ কিনতে হতো। এখন বাসার কাছেই বিভিন্ন ধরনের গাছ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সময়ও বাঁচছে, আবার পছন্দমতো গাছও সহজে পাওয়া যাচ্ছে।”

তবে বিক্রেতাদের দাবি, মানুষের আগ্রহ বাড়লেও বর্তমানে শহরে লোকসমাগম কিছুটা কম থাকায় বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না। তারপরও প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা।

পরিবেশবিদদের মতে, শহরে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ গাছ বিক্রির উদ্যোগ সবুজায়ন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে একদিকে যেমন মানুষের মধ্যে গাছ লাগানোর আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে শহরের পরিবেশও ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে উঠছে।

  • সর্বশেষ