হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরে ঠিকাদারি কাজের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের জেরে এক সাংবাদিককে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঠিকাদারসহ ৮/৯ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন দেশ টিভি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর ফরিদপুর প্রতিনিধি মো. আনিচুর রহমান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির আওতাধীন ভাঙ্গা উপজেলার পীরেরচর সিসি রাস্তা ও আরএই হাটখোলা রোড উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার কাজ পায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের গুণগত মান ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে সাংবাদিক আনিচুর রহমান, স্টার নিউজের ফরিদপুর প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান হিমন এবং আরটিভির ভাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধি মোসলেউদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।
এসময় অভিযুক্ত ঠিকাদার সাইদুর রহমান জেভির লোকজন তাদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেয় এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করতে টাকার প্রলোভনও দেখানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিক আনিচুর রহমান অভিযোগ করেন, তিনি প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি তার গতিবিধিও নজরদারি করা হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
২১ মে দায়ের করা এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২০ মে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে যান আনিচুর রহমান। হাসপাতালের ভেতরে পৌঁছালে সাব্বির নামের এক যুবকসহ ৬/৭ জন তাকে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে তারা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি হাসপাতালের নতুন ভবনের ১০ম তলায় উঠে গেলেও অভিযুক্তরা সেখানে গিয়েও তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা তাকে জোর করে লিফটে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে তার চিৎকারে হাসপাতালের স্টাফ ও রোগীর স্বজনরা এগিয়ে এসে উদ্ধার করেন। এসময় অভিযুক্তরা সুযোগ পেলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ হাসপাতালের সিসি ক্যামেরায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার (২৩ মে) সকালে সাংবাদিক আনিচুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক হামলার শিকার হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। আমরা তদন্তপূর্বক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
এব্যাপারে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “সাংবাদিক আনিচুর রহমানের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আমরা আসামিদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছি।