শিরোনাম
◈ সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী এবং কোন পাঁচ বিষয় চ্যালেঞ্জ হতে পারে? ◈ ঢাকার যানজট কমাতে টোল থেকে বাস টার্মিনাল, প্রধানমন্ত্রীর ৮ নির্দেশনা ◈ মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের করণীয়-বর্জনীয় নিয়ে জরুরি নির্দেশনা ◈ ডিবিকে ফোনকল: আমি ভালো হয়ে যাবো, অস্ত্রসহ আমাকে নিয়ে যান ◈ ভ্রমণ আরও সহজ করতে এআই মোডে গুগলের নতুন ফিচার ◈ হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, মোট ৯৬৩ ◈ সরকারের ছয় মাসে ১০ অভিযোগ চরমোনাই পীরের ◈ সব কাজ দ্রুত করা সম্ভব না হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়া নিয়ে যা বললেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ◈ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান

প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:০৩ বিকাল
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কালীগঞ্জে স্মার্ট ফুয়েল অ্যাপের মাধ্যমে একাধিকবার তেল নেওয়া বন্ধে মিলছে সুফল

ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে চালু হয়েছে স্মার্ট ফুয়েল অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে একই বাইকারের একাধিকবার তেল নেওয়া সহজেই শনাক্ত করা যাচ্ছে, ফলে কমেছে ভিড়, জনদুর্ভোগ ও অনিয়ম।

এর আগে দেখা যেত, বাইকাররা একই দিনে একাধিক ফিলিং স্টেশনে ঘুরে ঘুরে তেল সংগ্রহ করতেন। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত তেল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করতেন। এমনকি তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিলিং স্টেশনগুলোতে মারামারি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। এসব চিত্র ধারণ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরাও।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঝিনাইদহের  কালীগঞ্জের তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা শেখ ওবায়দুল হক রাসেলের উদ্যোগে উদ্ভাবন করা হয় স্মার্ট ফুয়েল অ্যাপ। গত ৭ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের উপস্থিতিতে শহরের কোটচাঁদপুর সড়কের একটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে অ্যাপটির কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এটি চালু করা হয়েছে।
অ্যাপটির মাধ্যমে প্রতিটি মোটরসাইকেলের নাম্বার প্লেট স্ক্যান করে তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। যেসব বাইকের নাম্বার প্লেট নেই, সেগুলোর ইঞ্জিন নাম্বার ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি মোটরসাইকেলকে নির্দিষ্ট পরিমাণ (৫০০ টাকা) পেট্রোল বা অকটেন দেওয়া হচ্ছে এবং একবার তেল নেওয়ার পর ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় তেল নেওয়া যাচ্ছে না। এই সময়ের মধ্যে কেউ আবার তেল নিতে এলে স্ক্যানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ইতোমধ্যে শতাধিক বাইকারকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা একাধিকবার তেল নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রাথমিকভাবে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। পুনরাবৃত্তি হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

একজন বাইকার রাশেদ হোসেন বলেন, আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তেল পাওয়া যেত না। এখন এই অ্যাপ চালুর পর দ্রুত তেল পাওয়া যাচ্ছে, ভোগান্তি অনেক কমেছে।
আরেক বাইকার সুমন আলী বলেন, আগে কিছু মানুষ একাধিকবার তেল নিয়ে মজুদ করত, যার কারণে আমরা সাধারণ বাইকাররা সমস্যায় পড়তাম। এখন স্মার্ট অ্যাপের কারণে সেই সুযোগ আর নেই, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ।

শেখ ওবায়দুল হক রাসেল বলেন, জ্বালানি সংকটের সময় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং অসাধু চক্রকে প্রতিরোধ করতেই এই স্মার্ট ফুয়েল অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অনিয়ম সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, এই অ্যাপ চালুর ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। প্রশাসন নিয়মিত মনিটরিং করছেন। যাদের বৈধ কাগজপত্র আছে তাদেরকে তেল দেয়া হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র না থাকলে তাদেরকে তেল দেয়া হবে না এবং জরিমানার আওতায় আনা হবে। এতে করে মোটরসাইকেলের তেল নিতে আসা বাইকারদের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসছে। সাধারণ মানুষ এখন স্বস্তিতে তেল পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে এবং কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ