শিরোনাম
◈ চলতি বছরেই দেশে ফিরবো: শেখ হাসিনা ◈ ঢাকায় নতুন কমিশনার, কুমিল্লা-সিলেটে নতুন ডিসি ◈ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মুগদা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা থেকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : হাবিবুর রশীদ ◈ ২০১৬ সালে ভারতের নোট বাতিলের উদ্যোগের মতোই বাংলাদেশেও ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব সংসদে! ◈ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, মহাসড়কে তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ◈ সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া গেলেন সেনাপ্রধান ◈ ইরানে টানা দ্বিতীয় দিনের মার্কিন হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি আইআরজিসির ◈ মহাকাশ গবেষণায় জোর: আকস্মিকভাবে স্পারসো পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আধুনিকায়নের নির্দেশ ◈ ইবোলা সতর্কতায় ভারতে সব আন্তর্জাতিক যাত্রীর জন্য বাধ্যতামূলক এয়ার সুভিধা ২.০ ◈ কোনো দেশের সরকারপ্রধান আরেক দেশের কাছে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে যায় না, এ সমস্ত প্রশ্ন করবেন না, আমরা খুব বিব্রত হই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:৪৬ সকাল
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাধাচূড়া-জারুলে সেজেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

দেশের ব্যস্ততম সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এই সড়কে এখন বইছে বসন্তের বাতাস। বাস্তবিক অর্থেই ফুলে ফুলে ভরে গেছে এই মহাসড়ক। সড়ক বিভাজকে লাগানো গাছে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রামের শেষ প্রান্ত মোহাম্মদ আলী পর্যন্ত প্রায় ১০৫ কিলোমিটারজুড়ে ফুটেছে রাধাচূড়া। এর বাইরে এই পথের কোথাও দেখা মিলছে কৃষ্ণচূড়া, জারুল ও সোনালু ফুলের।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক—দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ধমনি। প্রতিদিন হাজারো যান চলে এই পথে। কুমিল্লার চান্দিনার কাঠেরপুল এলাকা থেকে শুরু করে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে রাধাচূড়া ফুলের সমারোহ পথচারীদের দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে। চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে তাকালেও চোখে পড়ে ফুলে ভরা গাছের সারি। অনেকে গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ নীরবে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর আয়োজন।

নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করা ট্রাকচালক শফিক মিয়া বলেন, আগে এই রাস্তায় ধুলা আর যানজট ছাড়া কিছুই চোখে পড়ত না। এখন ফুলগুলো দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়। দীর্ঘ পথ গাড়ি চালানোর ক্লান্তিও কিছুটা কমে।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বাসচালক মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, একই দৃশ্য দেখতে দেখতে একঘেয়েমি চলে আসে। কিন্তু এই ফুলগুলো রাস্তায় ভিন্নতা এনে দিয়েছে, যা মনকে সতেজ রাখে।

যাত্রীদের মধ্যেও এ দৃশ্য নিয়ে রয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী যাত্রী সাদিয়া জাহান বলেন, দেশের সড়কেও এমন সুন্দর দৃশ্য দেখা যাবে, তা ভাবিনি। বিদেশের মতোই মনে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এই পথ দিয়ে হাঁটি। এখন মনে হয় যেন ফুলের বাগানের মধ্য দিয়ে চলছি। অনেকে শুধু এই দৃশ্য দেখতে এখানে আসছেন।

কলেজশিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানান, বন্ধুদের নিয়ে প্রায়ই এখানে ছবি তুলতে আসেন তাঁরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি শেয়ার করলে অনেকে জায়গাটি সম্পর্কে জানতে চান।

লাভ ফর বাংলাদেশ ট্যুরিজম ক্লাবের সভাপতি মীর মফিজুল ইসলামের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সড়কের পাশে গাছ লাগানো হলে তা বায়ুদূষণ কমায়, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক হয়। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যদি পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এমন সবুজায়ন ও ফুলের সমারোহ ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন সড়কে পরিণত হতে পারে।

সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের কুমিল্লার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আদনান ইবনে হাসান জানান, মহাসড়ককে দৃষ্টিনন্দন করতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থানে ঋতুভিত্তিক ফুলগাছ রোপণ করা হচ্ছে। যাতে সারা বছরই কোনো না কোনো ফুল ফুটে থাকে। তিনি বলেন, এ কার্যক্রম ধীরে ধীরে পুরো মহাসড়কে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে একদিকে যেমন সড়কের সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে চালক ও যাত্রীদের মানসিক চাপও কমবে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়