শিরোনাম
◈ অর্থ বিল সংশোধন করে করমুক্ত আয়সীমা ৪-৫ লাখ টাকা করা হচ্ছে ◈ কারিগরি ত্রুটিতে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, বাড়তে পারে লোডশেডিং ◈ প্রিপেইড মিটার রিচার্জে ভোগান্তি, নেই সমাধান ◈ জাপানের বিরুদ্ধে প্রথম দলে দেখা যাবে নেইমারকে? লাখ টাকার প্রশ্ন ব্রাজিল শিবিরে ◈ বিরোধী দল সেই সংস্কারের কথা বলে, যে সংস্কার তাদের ক্ষমতার ভাগ দেবে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ◈ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় সমঝোতা কি ভেস্তে যাবে ◈ জিম্বাবুয়ে গে‌লো বাংলা‌দেশ ক্রিকেট দল  ◈ তারেকের মালয়েশিয়া সফরের ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য ◈ আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারে মার্কিন আদালতের আপত্তি ◈ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে প্রধানমন্ত্রী, দিলেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪৭ বিকাল
আপডেট : ২৭ জুন, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যানবাহনের হর্নে অতিষ্ঠ রাজশাহী নগরী, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: নগরায়নের প্রভাবে রাজশাহীতে শব্দ দূষণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

শনিবার নগরীর ব্যস্ততম রেইলগেট এলাকায় পরিচালিত এক পরিমাপে দেখা গেছে, শব্দের মাত্রা সরকারি সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে গেছে বহুগুণ।

বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে এবং বারিন্দ এনভায়রনমেন্টের সহযোগিতায় পরিচালিত এই পরীক্ষায় সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গড় সর্বোচ্চো শব্দমাত্রা পাওয়া যায় ১০০.৫ ডেসিবেল এবং বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩.৭ ডেসিবেলে। যেখানে বাংলাদেশের শব্দ দূষণ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী বাণিজ্যিক এলাকায় দিনের বেলায় সহনীয় মাত্রা ৭০ ডেসিবেল।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, একই স্থানে ২০২২ সালে শব্দের গড় মাত্রা ছিল ৯০ ডেসিবেল, ২০২৩ সালেও ছিল ৯০ ডেসিবেল, ২০২৪ সালে ৯৬ ডেসিবেল এবং ২০২৫ সালে সর্বোচ্চো গড় ছিল ৯৭ ডেসিবেল। ধারাবাহিকভাবে শব্দ দূষণ বৃদ্ধির এই প্রবণতা নগরবাসীর জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিমাপ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন প্রকৌশলী ড. মোঃ জাকির হোসেন খান। তাকে সহযোগিতা করেন ড. অলি আহমেদসহ অন্যান্য গবেষক ও স্বেচ্ছাসেবীরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, শব্দ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের প্রবণতা দায়ী। বিশেষ করে টিটি হর্নের ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। এছাড়া বাসগুলোকে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে হর্ন বাজাতেও দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অটোরিকশায় ভেপু হর্ন বাধ্যতামূলক করা, যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট লেন চালু করা এবং বাস স্টপেজ নির্ধারণ করলে অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে শহরে নির্দিষ্ট গতি সীমা নির্ধারণ করলে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এদিকে, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (টঘঊচ)-এর ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে ঢাকাকে বিশ্বের সবচেয়ে শব্দ দূষণকারী শহর এবং রাজশাহীকে চতুর্থ স্থানে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে রাজশাহীতে শব্দের মাত্রা ১০৩ ডেসিবেল হিসেবে দেখানো হয়।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত শব্দের কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অনিদ্রা, মানসিক অস্থিরতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, শব্দ দূষণের প্রভাব শুধু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পশু-পাখি ও পরিবেশের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ক্ষেত্রে গাছপালা শব্দ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। রাজশাহীতে আম, জাম, নিম ও সজনে গাছের মতো পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে শব্দ ও বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা জানায়, তারা অতীতেও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে লিফলেট বিতরণ ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পরিচালনা করেছে এবং ভবিষ্যতেও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ অব্যাহত রাখবে। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়