শিরোনাম
◈ বাংলাদেশে টমেটো ও আলুর সংগ্রহ-পরবর্তী বিভিন্ন পর্যায়ে নষ্ট এক-তৃতীয়াংশ ধানে ১০.২৪% ◈ ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ম‌্যাচ সন্ধ‌্যায়, মু‌খোমু‌খি বাংলা‌দেশ ও জিম্বাবু‌য়ে ◈ মেসি-পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত ◈ আগামী ২৪ ঘণ্টায় যেসব বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে ◈ উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, মাদক সিন্ডিকেট ও দখলদারি নিয়ন্ত্রণে ‘দে লাড়া’ গ্রুপ (পিচ্চি সানি) ◈ ইমরান খান, ক্যালিস, ও সোবার্সের তালিকায় সাকিব আল হাসান ◈ ভারত কোটি টাকা আয় করবে, আর বঞ্চিত হ‌বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ? ◈ হুতির হামলা আম‌লে নি‌চ্ছে না  সৌ‌দি আরব, যথাসময়ে এশিয়ান কাপ ফুটবল আয়োজনের ঘোষণা ◈ উপসাগরীয় অবকাঠামোয় ইরানের নিখুঁত হামলা, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধপরিকল্পনা ◈ গণপিটুনিতে ৯ মাসে ১৭১ মৃত্যু, ‘মব’ কি সংঘবদ্ধ অপরাধের নতুন কৌশল?

প্রকাশিত : ৩০ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০১ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গোমতীতে দলবেঁধে মাছ শিকারের আমেজ, পলোতে ধরা পড়ল ১০ কেজির কারফু

শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা : কুমিল্লার গোমতী নদীর বুকে যেন নেমেছিল এক অন্যরকম উৎসবের আবহ। সকাল থেকেই নদীর বিভিন্ন ঘাটে জড়ো হন শত শত জেলে ও স্থানীয় মানুষ। হাতে পলো, চোখে উত্তেজনা, দলবেঁধে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী পলো দিয়ে মাছ ধরার আয়োজন।
এ আয়োজন ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে ছোট ছোট কিশোর থেকে বৃদ্ধ বয়সী লোকজন ও যোগ দেন এমন উৎসবে।

গতকাল (সোমবার) সকাল ১০ টা থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলে দলে জেলেরা যোগ দিতে থাকেন এই পলো উৎসবে। চৌদ্দগ্রাম, নাংগলকোট, সদর দক্ষিণ  ও সদর উপজেলা হতে প্রায় ৩০০ এর বেশি প্রবীণ-বৃদ্দ মিলিত হোন। বেলা ১১ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত দলবেধে মাছ ধরেন তারা। 

এই জমজমাট আয়োজনে সবচেয়ে বড় চমক দেখান ৮৫ বছর বয়সী প্রবীণ জেলে আবু হানিফ। 
তিনি হলেন মাছ ধরা দলের সকলের সর্দার। প্রায় ৫৫ বছর ধরে মাছ ধরেন তিনি। বয়সের ভারকে যেন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি পলো দিয়ে ধরেন প্রায় ১০ কেজি ওজনের একটি বিরল লাল কারফিউ মাছ।

আবু হানিফ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি পলো দিয়ে মাছ ধরে থাকেন। প্রায় ৫৫-৬০ বছর ধরে মাছ ধরার অভিজ্ঞতায় তিনি অসংখ্যবার বড় বড় আকারের মাছ ধরেছেন। নদী থেকে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি ওজনের বোয়াল মাছ ধরার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।

বছরের বিভিন্ন সময়েই দেখা যায় তাদের এমন মাছ ধরার আয়োজন। বিভিন্ন উপজেলায় দলের প্রতিনিধি থাকেন। সর্দার সকল প্রতিনিধিকে নির্দিষ্ট স্থান ও সময় জানিয়ে দিলেই সকলে উপস্থিত হয়ে যান নির্দিষ্ট ঠিকানায়। এভাবেই দীর্ঘঘদন ধরে চলছে পলো দিয়ে এমন মাছ ধরা।

এদিকে পলো দিয়ে মাছ ধরার এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, বরং গ্রামীণ সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদীর পানিতে একসাথে নেমে দলবেঁধে মাছ ধরার দৃশ্য যেন গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐক্য ও আনন্দের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।

  • সর্বশেষ