শিরোনাম
◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি, বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে জনপ্রিয়-ত্যাগীদের অগ্রাধিকার ◈ মে‌সির ইন্টার মিয়া‌মি‌তে নতুন আর্জেন্টাইন কোচ ◈ এশিয়ান গেম‌সে দুর্বল ব‌্যবস্থাপনা জাপা‌নের, ক্ষোভ ভার‌তের, গেমসে সি‌নিয়র ক্রিকেট দল পাঠা‌বে না বি‌সি‌সিআই!  ◈ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫০ কিলোমিটার যানজট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা ◈ ঢাকার যানজট কমাতে ২০ বছরের মহাপরিকল্পনা, বাস্তবায়নেই যত শঙ্কা ◈ বিদ্যুৎসংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসতে চান ব্যবসায়ীরা, মিলল ৫ প্রস্তাব ◈ ছয় মাস ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, বাড়ছে রহস্য ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচন: বিদ্রোহী ঠেকাতে কঠোর বিএনপি, প্রার্থী বাছাইয়ে জনপ্রিয়তা-সততায় নজর ◈ ইরান যুদ্ধে ছয় মাসে বদলে গেছে যে ৬ সমীকরণ ◈ পশ্চিমবঙ্গে শিগগিরই ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল কংগ্রেস: মমতা

প্রকাশিত : ১৪ মার্চ, ২০২৬, ০৫:৪৭ বিকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কাইতলার শতবর্ষী জমিদার বাড়ি ধ্বংসের মুখে, সংরক্ষণের দাবি স্থানীয়দের

মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাইতলা গ্রামের প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িটি আজ ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। এক সময় ত্রিপুরার রাজা বিরেন্দ্র কিশোর মানিক্য-এর অধিভুক্ত এই জমিদার বাড়িটি ছিল প্রশাসনিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সময়ের পরিক্রমায় অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন সেই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি জীর্ণপ্রায় হয়ে পড়েছে।

ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, জমিদার বিশ্বনাথ রায় চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গের শিমগাঁও এলাকা থেকে কাইতলা গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন। তার তিন ছেলে ছিলেন তিলক চন্দ্র রায় চৌধুরী, অভয় চন্দ্র রায় চৌধুরী ও ঈশান চন্দ্র রায় চৌধুরী। এক সময় এই জমিদার বাড়ি ছিল জাঁকজমকপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কেন্দ্রস্থল। এখানে ছিল নাচমহল, বাইজীদের আসর, পায়েলের ঝুমঝুম ও নূপুরের নিক্কন। মাহুতের হাতিতে চড়া, পাইক-পিয়াদার আনাগোনা এবং বিচারালয়ের ঘণ্টাধ্বনি মিলিয়ে বাড়িটি ছিল ঐশ্বর্য ও গৌরবের প্রতীক।

বর্তমানে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং চারপাশে ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জমিদার বাড়ির জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এছাড়া সন্ধ্যার পর সেখানে মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ছে, যা এলাকার পরিবেশকে নষ্ট করছে।

জমিদার পরিবারের নাম আজও এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা ও এলাকার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। যেমন অভয়নগর, ঈশান নগর এবং কাইতলা যজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়। যজ্ঞেশ্বর রায়ের স্ত্রী সুখমনি রায়ের নামে একটি দীঘি রয়েছে, যা ‘সুখ সাগর দীঘি’ নামে পরিচিত। জমিদার বাড়ির পাশেই রয়েছে রহস্যঘেরা ‘আন্ধা পুকুর’। স্থানীয়দের মধ্যে এ পুকুরকে ঘিরে সাপের উপস্থিতি ও গুপ্তধনের নানা কিংবদন্তি প্রচলিত রয়েছে।

সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের  চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল জমিদার বাড়িটি পরিদর্শন করেছে। তারা স্থাপনাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সংরক্ষণের সম্ভাবনা যাচাই করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করছেন বলে জানা গেছে।

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “কাইতলার জমিদার বাড়ি আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে কাইতলার এই ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িটি নবীনগর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এতে এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নীরবতা ও সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কাইতলার এই শতবর্ষী জমিদার বাড়ি আজও অতীতের এক গৌরবময় ইতিহাসের গল্প বলে যাচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটির সংরক্ষণ কামনা করছেন।

  • সর্বশেষ