শিরোনাম
◈ ইনানী রিসোর্টে আগুন: ফজরের পর সৈকতে গিয়ে বাঁচলেন দুই বান্ধবী, প্রাণ গেল মুক্তার ◈ আ‌লিং হলান্ডের জোড়া গোলে ম‌্যান‌চেস্টার সিটির জয় ◈ তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন, আবেদন শুরু ১ নভেম্বর ◈ কুমিল্লায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমির দ্বন্দ্বে যুবদল নেতা খুন : পুলিশ সুপার ◈ দেশ গঠনে যুবসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত ১৭, ১৩ নারী ও ১ শিশু ◈ ভোটার তালিকা হালনাগাদ ২০২৬: খসড়া প্রকাশ ৫ নভেম্বর, চূড়ান্ত তালিকা ২৫ নভেম্বর ◈ সৌদি আরবের আইনে সাজা হলে সরকারের কিছু করার থাকে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ◈ মাদকের আস্তানায় অস্ত্র হাতে অভিযান নিয়ে যা বললেন ইশরাক ◈ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়াবে সরকার, কর্মসংস্থান ও যাতায়াত সুবিধা নিয়েও উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৯ রাত
আপডেট : ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সিসিটিভি ফুটেজ থাকার পরও অগ্রগতি নেই তদন্তে

বেনাপোলে গরু ব্যবসায়ী মিজান হত্যার ৬ মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি

মো. আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর): যশোরের বেনাপোলে গরু ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তারেও নেই কোনো অগ্রগতি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং অপরাধীদের আড়াল করার সন্দেহও তৈরি হয়েছে।

গত বছরের ২৮ আগস্ট গভীর রাতে বেনাপোলের ছোটআঁচড়া গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করা হয় মিজানুর রহমানকে। ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন তার স্ত্রী ফিরোজা খাতুন (৪২), মেয়ে ফাতেমা খাতুন বৃষ্টি (২৪) এবং ছেলে ওমর ফারুক মুরসালিন (২০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে কোনো বহিরাগত ব্যক্তির প্রবেশের দৃশ্য দেখা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে— এত নিরাপত্তাবেষ্টিত বাড়ির ভেতরে মিজানুর রহমানকে কে বা কারা হত্যা করল।

নিহতের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন জানান, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মিজান বাড়িতে ফিরে গেট ও ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমাতে যান। প্রতি শুক্রবার ভোররাত আড়াইটার দিকে তিনি পাশের বড়আঁচড়া গ্রামের মাংস ব্যবসায়ী আহমেদ আলীর দোকানে মাংস কাটার কাজে যেতেন।

Advertisement

পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পায়, রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে আহমেদ আলীর ভ্যানচালক রহমত আলী মিজানুর রহমানকে ডাকতে বাড়িতে আসেন। তখন বাড়ির মূল ফটক ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে মিজানুরের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন ঘরের ক্লপসিবল গেটের তালা খুলে বাইরে এসে মূল গেট খুলে দিলে রহমত আলী বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন।

নিহতের মেয়ে ফাতেমা খাতুন বৃষ্টি পুলিশের উপস্থিতিতে জানান, ভ্যানচালকের ডাক শুনে তার মা বাইরে গিয়ে দেখতে পান, ঘরের ক্লপসিবল গেটের সামনে গোয়ালঘরের দরজার পাশে তার বাবার মরদেহ পড়ে আছে।

স্থানীয়দের দাবি, এত সুরক্ষিত বাড়িতে বাইরের কারো প্রবেশ না থাকলে হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটল— এ প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অনেকের ধারণা, হত্যার আগে মিজানুর রহমানকে কোনো চেতনানাশক পদার্থ খাইয়ে অচেতন করা হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, হত্যার কিছুক্ষণ আগে রাত ২টা ২৯ মিনিটে ব্যবসায়িক অংশীদার আহমেদ আলীর সঙ্গে মিজানুর রহমানের ফোনে কথা হয়েছিল। সিসিটিভির শব্দ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই কথোপকথনের মাত্র ৬–৭ মিনিট পরই তার গলা কেটে হত্যা করা হয়।

ঘটনাস্থলটি সিসিটিভি ক্যামেরার সরাসরি দৃশ্যের বাইরে থাকায় হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। হত্যার পেছনে পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনো সম্পর্কজনিত ঘটনারও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের স্ত্রী বা সন্তান কেউই মামলার বাদী হতে রাজি হননি। পরে নিহতের বড় ভাই ভাই হত্যার বিচার চেয়ে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় তৎকালীন ওসি রাসেল মিয়াকে বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর নতুন দুইজন ওসি দায়িত্ব নিলেও এখনো হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। এতে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক সাহা বলেন,
“মিজান হত্যা মামলার রহস্য এখনো উদ্ঘাটন হয়নি। তবে আমরা সাধ্যমতো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।”

  • সর্বশেষ