শিরোনাম
◈ ইরানের হুমকির পর ঘরবন্দি ট্রাম্পপুত্র ব্যারন, কাটছে অন্তর্মুখী জীবন ◈ কনটেইনার পরিবহন বাড়লেও সেরা ১০০ বন্দরে ৬৮তম চট্টগ্রাম ◈ সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী এবং কোন পাঁচ বিষয় চ্যালেঞ্জ হতে পারে? ◈ ঢাকার যানজট কমাতে টোল থেকে বাস টার্মিনাল, প্রধানমন্ত্রীর ৮ নির্দেশনা ◈ মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের করণীয়-বর্জনীয় নিয়ে জরুরি নির্দেশনা ◈ ডিবিকে ফোনকল: আমি ভালো হয়ে যাবো, অস্ত্রসহ আমাকে নিয়ে যান ◈ ভ্রমণ আরও সহজ করতে এআই মোডে গুগলের নতুন ফিচার ◈ হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, মোট ৯৬৩ ◈ সরকারের ছয় মাসে ১০ অভিযোগ চরমোনাই পীরের ◈ সব কাজ দ্রুত করা সম্ভব না হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৬ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৫ বিকাল
আপডেট : ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভালো মুকুলে দাম নিয়ে শঙ্কা চাষিদের

মো. রমজান আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : ফাগুনের হিমেল হাওয়ায় আমের গাছের ডগায় দোল খাওয়া মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে এখন মাতোয়ারা আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। জেলার ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর আম বাগানে যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই দেখা মিলছে মুকুল আর মুকুল।

দেশের উত্তরের সীমান্ত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল হচ্ছে আম। আম ঘিরে বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত এখানকার চাষিরা।

কৃষি কর্মকর্তা ও আম চাষিরা জানান, শীতের তীব্রতা কমে যাওয়া জানুয়ারি মাসের শেষ গাছে গাছে আমের মুকুল আসা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রেকর্ড মুকুলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন আমচাষীরা। তবে ভাল ফলনে আমের যথাযথ বাজারদর পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, গেল বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জজুড়ে নাবীজাতের এবং নতুন ছোট গাছেই বেশি মুকুল এসেছিল। পুরাতন জাতের বড় গাছগুলোয় তেমন মুকুল না আসায় জেলাজুড়ে মুকুলের পরিমাণ ছিল অর্ধেকের কিছুটা বেশি। এবার মৌসুমের শুরুতেই শীত কেটে যাওয়াসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নতুন পুরাতন দু’ ধরণের গাছেই আমের মুকুল এসেছে রেকর্ড পরিমাণ। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আতাহার এলাকার আম চাষি গোলাম মোস্তফা বলেন, মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাগানে ভালো মুকুল হয়েছে। বাগানে মুকুল আসার পর থেকে আমরা পরিচর্যায় কাজে ব্যস্ত সময় পার করছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার পাঠান পাড়া এলাকার আম চাষি আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বছর গাছে গাছে মুকুল ভালো আছে। এবার  আমের ফলন ভালো হবে। ভালো ফলনের কারণ এবার আমের দাম কম হবে বলেও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

পৌর এলাকার আরেক আম চাষি বাবু বলেন, মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা করছি। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্প্রে করা হচ্ছে। কিছু দিনের মধ্যে মুকুল থেকে আমের গুটি বের হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এ অবস্থা থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, ‘ চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ অনেক আগে থেকেই আমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এবার যে ভাল ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তাকে যথাযথ বাণিজ্যিক রূপ দেয়া গেলে একদিকে লাভবান হবেন আম চাষীরা অন্যদিকে দেশের অর্থনীতি যোগ হবে নতুনমাত্রা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন,চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এখন ৯০ শতাংশ গাছ মুকুলিত হয়েছে। তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আম চাষীদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, গাছে সেচের ব্যবস্থা করা ও রোগবালাই এবং পোকামাকড় দমনের জন্য নিয়মিত স্প্রে করার।

তিনি আরও বলেন, আগামীতে যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, আশা করছি এ বছর গতবারের চেয়ে মুকুল ভালো হবে এবং ফলন ভালো হবে। এবার চাঁপাইনাববগঞ্জে ৫ লাক্ষাধিক মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে বলে আমরা আশা করছি’।

  • সর্বশেষ