গোপালগঞ্জে পরকীয়ার জেরে নিজের ৩ বছরের শিশু সন্তানকে হত্যা অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার জন্য এ হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে পরিবার ও পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় মা সেতু বেগমকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। প্রায় ২০ দিন পর ট্রাংকের মধ্যে লুকানো শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গোপালগঞ্জ পৌরসভার গোবরা মধ্যপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে শিশুটির পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের নানি পারভিন আক্তার জানান, কাতার প্রবাসী রুবেল শেখের দ্বিতীয় স্ত্রী সেতু বেগম তার সাড়ে ৩ বছরের মেয়ে ফারিয়াকে নিয়ে বসবাস করতেন। এরই মধ্যে সেতু বেগম পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন ফরিদপুরের হাট কৃষ্ণপুর গ্রামের মিরাজ নামের এক ছেলের সঙ্গে। টিকটকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয় এবং পরে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন।
প্রেমিকের সঙ্গে একত্রে থাকতে, সেতু বেগম নিজের শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং ট্রাংকে ভর্তি করে বাড়ির ভেতর তালা মেরে পালিয়ে যান।
তিনি আরো বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে মেয়ের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানাই। পুলিশ হত্যাকারী মায়ের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাড়ির তালা ভেঙে ট্রাংকের ভেতর থেকে পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু জানান, আমরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছি। আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উৎস: কালের কন্ঠ।