শিরোনাম
◈ মি‌ডিয়ার বিরু‌দ্ধে এমন সিদ্ধান্ত কে‌নো? বিসিবির কোন নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে, জানতে চান সাংবাদিকেরা  ◈ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্বাচনের ৩ দিন আগে শুল্ক চুক্তি করবে অন্তর্বর্তী সরকার ◈ রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ◈ কুখ্যাত এপস্টেইন নথিতে বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ◈ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা কেন শঙ্কিত? ◈ জানুয়ারিতে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এলো ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার ◈ কুৎসা রটিয়ে, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এবং ধাপ্পা দিয়ে জনগণের ভোট নেওয়া যায় না : মির্জা আব্বাস  ◈ প্রতারক চক্রের ফোনকলে সাড়া না দিতে নির্বাচন কমিশনের আহ্বান ◈ কিশোরগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে দালালচক্রের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান, ২০ জনের কারাদণ্ড ◈ নোয়াখালীতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর

প্রকাশিত : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৮:২১ রাত
আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড

ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা খুনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে মো. সুমন আলী (৪০) নামের এক ব্যক্তি তার মা সোহাগী বেগমকে (৬০) ধারালো অস্ত্র হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন।

নিহত সোহাগী বেগম ওই এলাকার মৃত আজিজুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি বিধবা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ছেলের নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা রাস্তায় রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর দরজা বন্ধ করে আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত সুমন আলীকে আটক করে। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুমন আলী দীর্ঘদিন ধরে হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত ছিলেন। নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। এছাড়া তিনি চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় তার কাছে ধারালো অস্ত্র হাসুয়া ছিল বলেও জানান স্থানীয়রা।

পরিবারের ছোট ছেলে রবিউল ইসলাম মানিকের স্ত্রী মোসা. শান্তি জানান, সুমন নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণে তার চার স্ত্রীই তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে নেশার টাকার জন্য শাশুড়ির ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তিনি। তাকে সুস্থ করার উদ্দেশ্যে এর আগে জেলেও পাঠানো হয়েছিল। তবে জেল থেকে বের হয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সুমন।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি আবারও শাশুড়িকে মারধর ও হুমকি দিচ্ছিলেন সুমন। বিষয়টি নিয়ে পরিবার পুলিশে দেওয়ার সিদ্ধান্তও আলোচনা করেছিল। কিন্তু শনিবার রাতে শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ টেনে রাস্তায় ফেলে দেন তিনি।

চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছেলেকে গ্রেপ্তার করে থানায় রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহতের অপর ছেলে বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অভিযুক্ত সুমন আলীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়