নিনা আফরিন,পটুয়াখালী : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো বড় চ্যালেঞ্জ দেখছে না নির্বাচন কমিশন। জাতিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাল্লাহ এ কথা বলেন।
শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স অবজারভেশন টিমের সঙ্গে আলোচনা সভা শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার বলেন,‘কমিশনের নির্দেশনা গুলো নিয়ে জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভিজিল্যান্স অবজারভেশন টিমের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পটুয়াখালীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এখানে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা চাই শতভাগ ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। এ জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী মাঠে সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন,‘সার্বিকভাবে দেশে যে ধরনের নির্বাচনী পরিবেশ থাকে, এবারের পরিবেশ তেমন খারাপ নয়—এটা কমিশনের সামগ্রিক মূল্যায়ন। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটছে। এসব না ঘটলে নির্বাচন আরও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যেত।
তিনি আরও বলেন,‘ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই, সেখানে কিছু উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে সমর্থকদের মাঝে উস্কানিমূলক শব্দ চয়ন দেখা যায়, যা পরিহার করা উচিত। এসব বিষয় যাতে সীমিত পর্যায়ে থাকে এবং সবাই সংযত আচরণ করেন, সে বিষয়ে কমিশন নজর রাখছে। আমরা চাই না নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি হোক। নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে যাবে। এরপর সবাইকে মিলেমিশে এই সমাজেই বসবাস করতে হবে।’
রঙিন বিলবোর্ড ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন,‘রঙিন বিলবোর্ড ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে ব্যানার, ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং রঙিন পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।’
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘গণভোট নিয়ে কমিশনের নতুন কোনো নির্দেশনা নেই। শুধু প্রচলিত আইন অনুসরণ হয়েছে। সাধারণ নির্বাচনের মতো গণভোটেও সরকারি কর্মকর্তারা কোনো পক্ষ নিতে পারবেন না, তবে জনগণকে সচেতন করতে পারবেন।’
সভায় সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং জেলার আট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।