হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের মতিয়ারের কুম এলাকায় রাতের আঁধারে একটি বসতঘর তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোররাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে একদল লোক আকস্মিকভাবে ঘরের চাল ও বেড়া খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
ভুক্তভোগীরা জানান, ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া ওই জমিতে দুই ভাই উজ্জ্বল শেখ ও সুজন শেখ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ বসবাস করে আসছিলেন। জমিটি নিয়ে তাদের আপন চাচা, আলীয়াবাদ ইউনিয়নের ০৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সালাম শেখের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিক মামলা দিয়ে পরিবারটিকে হয়রানি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ তাদের।
ঘরের বাসিন্দা উজ্জ্বল ও সুজন শেখের বোন সুলতানা বেগম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের চাচা সালাম শেখ এই জায়গা থেকে আমাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। একাধিকবার শালিস বৈঠকও হয়েছে। সামনের অংশের জমির মূল্য বেশি হওয়ায় তিনি সেটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সালাম শেখের নির্দেশেই বুধবার ভোররাতে তার লেলিয়ে দেওয়া লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। তারা ঘরের চাল ও বেড়া খুলে নিয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা মালামাল লুটপাট করে। তবে ওই সময় ঘরে কেউ না থাকায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সুলতানা বেগম জানান, ঘটনার সময় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে সকালে বাড়িতে ফিরে আসেন সুজন শেখের স্ত্রী তানিয়া বেগম। তিনি বলেন, “ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এমনকি টিউবওয়েলটিও খুলে নিয়ে গেছে তারা।”
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সালাম শেখ। তিনি বলেন, “ঘর ভাঙচুর বা লুটপাটের সঙ্গে আমি বা আমার কোনো লোক জড়িত নই। যারা সেখানে ছিল, তারাই ঘর ভেঙে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে।” তবে তিনি দাবি করেন, ক্ষতিগ্রস্তরা অন্যের জায়গায় ঘর তুলে বসবাস করছিলেন।
আলীয়াবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ডাবলু বলেন, “এটি অত্যন্ত জঘন্য ও নিন্দনীয় ঘটনা। রাতের আঁধারে একটি পরিবারকে মুহূর্তের মধ্যে উচ্ছেদ করা অমানবিক।”
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”