হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে এক ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ আসনে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিল করা ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের মধ্যে প্রাথমিকভাবে কাউকেই বৈধ ঘোষণা করা হয়নি। যাচাই-বাছাই শেষে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং বাকি আটজনের মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
স্বতন্ত্র সাত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল: যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হওয়া সাতজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী মোট ভোটারের ন্যূনতম ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের সত্যতা যাচাইয়ে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা আহ্বায়ক মো. হাসিবুর রহমান অপু, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু, ঢাকা টাইমস সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন, মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ, মো. গোলাম কবীর মিয়া, মো. আব্দুর রহমান জিকো এবং বিএনপি প্রার্থীর স্ত্রী লায়লা আরজুমান বানু।
বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত: এ আসনে বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়নও প্রাথমিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। হলফনামায় উল্লেখিত সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে আয়কর নথির অসংগতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় কৃষকদল কমিটির সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। অপরদিকে বার্ষিক আয়ের তথ্যে ত্রুটির কারণে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্যার মনোনয়ন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
বিভিন্ন ত্রুটিতে আরও ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত: এছাড়া মামলা সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ না করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল বাসার খানের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন জমার কপি দাখিল না করায় বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মুহাম্মদ খালেদ বিন নাছের এবং বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির প্রার্থী মৃন্ময় কান্তির মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।
অন্যান্য প্রশাসনিক ও বিধিগত ত্রুটির কারণে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, জাতীয় পার্টির সুলতান আহমেদ খান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ শরাফাতের মনোনয়নও স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
বিকাল ৪টা পর্যন্ত সংশোধনের সুযোগ: এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা জানান, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে, তাঁদের প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও কাগজপত্র দাখিলের জন্য বিকাল ৪টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধন সম্পন্ন হলে বিধি অনুযায়ী পুনরায় যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
মনোনয়ন সংশোধন ও আপিল প্রক্রিয়া শেষে ফরিদপুর-১ আসনে শেষ পর্যন্ত কারা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।