‘আমরা থানা পুড়িয়ে দিয়েছি, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছি’—এমন হুমকিমূলক বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে আটকের খবরে হবিগঞ্জ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন একদল তরুণ।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) মাহদীকে আটকের পর হবিগঞ্জ সদর থানা ঘেরাও করেন তারা। এ সময় থানার প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় তারা গেটের বাইরে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে স্লোগান ও উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। মাহদীকে অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে তাদের।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানার সামনে পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উতপ্ত হয়ে ওঠে।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে আটক করে ডিবি পুলিশ। শনিবার সন্ধায় তাকে শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে মাইক্রোবাসে দিয়ে হবিগঞ্জ থানায় নিয়ে যায় বলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা জানিয়েছিলেন।
পরে সন্ধ্যার তাকে আটকের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার ইয়াসমিন আক্তার। কী কারণে আটক করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বিতর্কের মুখে মাহদী হাসানকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দেয় সংগঠনটি। সেই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়। এই ঘটনায় সর্বশেষ মাহদী হাসানকে আটকের খবর জানায় পুলিশ।
উল্লেখ্য, শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। নয়নকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার নেতাকর্মীরা তার মুক্তির দাবিতে শুক্রবার দুপুরে থানা ঘেরাও করেন। এ সময় জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র অধিকার আন্দোলনের সদস্যসচিব মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী ওসির কক্ষে অবস্থান নেন। তারা দাবি করেন, নয়ন একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরে তিনি জুলাই আন্দোলনে জড়িত হন। তারা নয়নকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি করেন।
আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে একপর্যায়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসির সঙ্গে তর্কে জড়ান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সদস্যসচিব মাহদী হাসান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় মাহদী ওসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে আপনি (ওসি) কোন সাহসে ‘আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে’ বললেন। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছে নাকি, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন।