শিরোনাম
◈ কম্বোডিয়ার প্রতারণা চক্রের ফাঁদ থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরলেন ৩০ বাংলাদেশি ◈ ফ্রান্সে বিক্ষোভের ঝড়, পতনের মুখে ম্যাক্রোঁ? ◈ এক যুগের বেশি সময় পর ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত, বদলে যাচ্ছে সড়কের নকশা ◈ সুখবর পেলেন ঋতুপর্ণারা, ফিফা নারী র‍্যাংকিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে ১০৬ নম্বরে বাংলাদেশ ◈ রাজশাহীতে ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষিকে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন তারেক রহমান ◈ শাহজালাল বিমানবন্দরে স্টোর ভবনে আগুন ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর ২৬ অক্টোবর, সই হবে অন্তত ৪ সমঝোতা স্মারক ◈ যে কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারি, নেপথ্যে যা জানা গেল ◈ জাতীয়কৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জরুরি নির্দেশনা ◈ ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দিল্লি থেকে টাকা আসছে কলকাতায়, উসকানি ছড়াচ্ছে বাংলাদেশ থেকে: দিলীপ ঘোষ

প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ০৬:৫১ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সচল ১৬ স্থলবন্দরে ১ কোটি ৫২ লাখ টন পণ্য আমদানি, ৮ বন্দর নিষ্ক্রিয়

আইরিন হক, বেনাপোল (যশোর): দেশের ২৪টি স্থলবন্দরের মধ্যে গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ১৬টি সচল বন্দরের মাধ্যমে ভারত থেকে ১ কোটি ৫২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি হয়েছে ১২ লাখ ৭২ হাজার ৩২৮ মেট্রিক টন পণ্য। তবে ব্যবসায়িক পরিবেশ ও অবকাঠামো অনুন্নত থাকায় বাকি ৮টি স্থলবন্দরে কোনো আমদানি–রফতানি কার্যক্রম হয়নি।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) ওবাইদুল মিয়া স্বাক্ষরিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে বেনাপোল, ভোমরা ও সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে গত অর্থবছরে ৯৫,৮৯৯টি ভারতীয় ট্রাকে ২০ লাখ ১১ হাজার ২৬৭ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি এবং ৪৭,৪৩৭টি বাংলাদেশি ট্রাকে ৪ লাখ ২১ হাজার ৭১৩ টন পণ্য রফতানি হয়েছে।

ভোমরা বন্দর দিয়ে ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৯ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি ও ২ লাখ ৮৬ হাজার ১৪৬ টন রফতানি হয়েছে।
সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ৩৬ লাখ ৩ হাজার ১৪৪ টন আমদানি হয়েছে, যা অন্যতম বৃহৎ আমদানি কেন্দ্র।

Advertisement

অন্যদিকে, গবড়াকুড়া-কড়ইতলী ও নাকুগাঁও বন্দর দিয়ে রফতানি কার্যক্রম ছিল শূন্য, আর বিলোনিয়া বন্দর দিয়ে সবচেয়ে কম আমদানি হয়েছে (মাত্র ৩৮ মেট্রিক টন)।

ব্যবসায়ীদের দাবি: অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, “স্থলপথে বাণিজ্য বাড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও অনুন্নত অবকাঠামো বড় বাধা। বিবিআইএন (বাংলাদেশ–ভারত–নেপাল–ভুটান) চুক্তি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। অন্তর্বর্তী সরকারকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”

বাংলাদেশ সিঅ্যান্ডএফ ফেডারেশনের সভাপতি সামসুর রহমান বলেন, “স্থলবন্দরগুলোর নাজুক অবস্থা নিয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদেরও ক্ষোভ আছে। অবকাঠামো উন্নয়ন হলে ব্যবসায়ীদের খরচ কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় দ্বিগুণ হতে পারে।”

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, “রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু বন্দর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে কোনো বাণিজ্য হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের পরামর্শ না নিয়েই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।”

সরকার ও বাণিজ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, “০৫ আগস্টের পর উভয় দেশের কিছু পণ্যে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমদানির পরিমাণ কমেছে। তবে বেনাপোল বন্দরে আধুনিক পণ্যগার, ইয়ার্ড ও রেল সংযোগ উন্নয়নের কাজ চলছে।”

তিনি আরও জানান, বেনাপোল দিয়ে মূলত শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিকেল, ফল, চাল, পেঁয়াজ, মাছ ইত্যাদি পণ্য আমদানি হয়। আর বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয় বসুন্ধরা টিসু, মেলামাইন, পাটজাত পণ্য, মাছ, ওয়ালটন ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্য।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্থলবন্দর বাণিজ্যে মোট ১ কোটি ৬৫ লাখ টনের বেশি পণ্য আদান-প্রদান হলেও, অনুন্নত অবকাঠামো ও নীতিগত জটিলতায় আট বন্দর নিষ্ক্রিয় থেকে গেছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যোগাযোগব্যবস্থা, ইয়ার্ড ও কাস্টমস সুবিধা বাড়ানো গেলে রাজস্ব আয়ে বিপুল প্রবৃদ্ধি আসবে।

  • সর্বশেষ