শিরোনাম
◈ ফ্রান্সে বিক্ষোভের ঝড়, পতনের মুখে ম্যাক্রোঁ? ◈ এক যুগের বেশি সময় পর ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত, বদলে যাচ্ছে সড়কের নকশা ◈ সুখবর পেলেন ঋতুপর্ণারা, ফিফা নারী র‍্যাংকিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে ১০৬ নম্বরে বাংলাদেশ ◈ রাজশাহীতে ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষিকে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন তারেক রহমান ◈ শাহজালাল বিমানবন্দরে স্টোর ভবনে আগুন ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর ২৬ অক্টোবর, সই হবে অন্তত ৪ সমঝোতা স্মারক ◈ যে কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারি, নেপথ্যে যা জানা গেল ◈ জাতীয়কৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জরুরি নির্দেশনা ◈ ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দিল্লি থেকে টাকা আসছে কলকাতায়, উসকানি ছড়াচ্ছে বাংলাদেশ থেকে: দিলীপ ঘোষ ◈ ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ কার্যকর

প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৫১ বিকাল
আপডেট : ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:১৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মিলার সেই ভিডিও : বুকফাটা আর্তনাদে নিঃস্ব এক পরিবারের বেদনার প্রতিচ্ছবি

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : ‘টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের লেলিহান শিখার মধ্যে সেই নারীর আর্তনাদের ভিডিওটি দেখলেই আমি মোবাইল বন্ধ করে দিই। তাঁর আর্তনাদ আমাকে বারবার কাঁদায়।’ কক্সবাজার ডিসি কলেজের প্রভাষক রুশনা আকতার সোমা রোববার এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা বলছিলেন।

‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক নারীর এই আকুতি ছুঁয়ে গেছে অসংখ্য মানুষের হৃদয়। কে এই নারী? কে সেই সাইফ, যাকে ফিরে পেতে এমন আকুলতা? সেই নারীর নাম মেহেরুন্নেসা মিলা (৩০)। কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়েছেন তিনি। প্রাণে বেঁচে ফিরলেও স্বজন হারানোর শোক তাঁকে তাড়া করে ফিরছে।

১৭ অক্টোবর অগ্নিকাণ্ডের পর ছড়িয়ে পড়ে মিলার কান্নার ভিডিও এবং ছবি। রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুলের সাবেক শিক্ষিকা মিলা বর্তমানে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বাড্ডা শাখায় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তাঁর স্বামী মাসুদ একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে কক্সবাজারে এসেছিলেন তাঁরা। মিলা ও তাঁর স্বামীসহ তিন বোনের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে আটজনের দলটি উঠেছিল মেরিন ড্রাইভ সড়কের টুপটুপ রিসোর্টে। সেই আনন্দভ্রমণই পরিণত হয় ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে।

রিসোর্টে আগুন ছড়িয়ে পড়লে প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন মিলা ও তাঁর স্বামী মাসুদ। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের আর ফিরে পাননি তাঁরা। একে একে হারিয়ে যান তাঁদের ছয় প্রিয়জন। স্বজনদের হারানোর সেই শোকের মুহূর্তে মিলা বারবার বলছিলেন, ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও।’ প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার অসম্ভব আকাঙ্ক্ষা আর অসহায়ত্ব যেন ধরা পড়ে তাঁর এই কয়েকটি শব্দে।

Advertisement

মিলা যে সাইফের নাম ধরে কাঁদছিলেন, তার প্রকৃত নাম ফায়িজান আহম্মেদ। বয়স মাত্র পাঁচ বছর। মিলার বড় বোন কাজল রেখার মেয়ে ফারিহা কবির সাবরিনের ছেলে ফায়িজানকে আদর করে ‘সাইফ’ নামে ডাকতেন মিলা। পরিবারের আদরের শিশুটিও প্রাণ হারিয়েছে অগ্নিকাণ্ডে। যে শিশুকে স্নেহভরে ডাকতেন, তাকে আর কখনো ফিরে পাবেন না—এই নির্মম বাস্তবতাই যেন মিলার আর্তনাদে বারবার ফিরে এসেছে।

মিলারা মোট ছয় বোন। তাঁদের তিন বোনের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই সফরেই প্রাণ হারান পরিবারের ছয়জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মিলার বড় বোন কাজল রেখার মেয়ে ফারিহা কবির সাবরিন ও তাঁর ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ। এ ছাড়া নিহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিস তেহামী জেরিফ। মিলার আরেক বোন রোকসানা আক্তার রিনার দুই মেয়ে—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা ও ইসরাত জাহান মালিহা। নিহত হয়েছেন মিলার আরেক বোন নুরুননাহার খানম স্বপ্নার মেয়ে, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মিলিতা মেহেজাবীন আলভী।

নিহত মিলিতা মেহেজাবীন আলভীর আপন চাচা রিয়াজ মাহমুদ রিপন এসব তথ্য জানিয়েছেন। ১৮ অক্টোবর দুপুরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ছয়জনকে হারিয়েছেন স্বজনেরা।

যে কক্সবাজারে তাঁরা এসেছিলেন আনন্দের স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফিরতে, সেই কক্সবাজার থেকেই ফিরতে হচ্ছে স্বজন হারানোর শোক নিয়ে। মিলা ও তাঁর স্বামী প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন, কিন্তু পরিবারের ছয় সদস্যের মৃত্যু তাঁদের জীবনে তৈরি করেছে অপূরণীয় শূন্যতা। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো এখন স্মৃতি; একসঙ্গে বাড়ি ফেরার প্রত্যাশার জায়গায় রয়ে গেছে হারানোর বেদনা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’ তাই শুধু একজন নারীর কান্না নয়। এটি স্বজন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া একটি পরিবারের অসহনীয় বেদনার প্রতিচ্ছবি।

  • সর্বশেষ