শিরোনাম
◈ মিনহাজুল আ‌বে‌দিন নান্নু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক  ◈ হাম-উপসর্গে দেশে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর মৃত্যু ◈ আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এডিবি ◈ কিচেন কেবিনেট’ সব সিদ্ধান্ত নিতো, ৩ বার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম: সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন (ভিডিও) ◈ ‘ভারত যা চাইবে তাই পাবে’: মোদিকে নিয়ে ট্রাম্পের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ◈ কারখানা প্রস্তুত, নেই গ্যাস: ঋণের চাপে দিশেহারা শিল্প উদ্যোক্তারা, থমকে গেছে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ◈ পুঁজিবাজারে নতুন বড় কোম্পানি: বিআরবি ক্যাবলের আইপিওর প্রস্তুতি শুরু ◈ বাংলাদেশে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত ছয়টি মামলা কী অবস্থায় আছে?  ◈ কোরবানির পরবর্তী সাতদিন ঢাকার বাইরে থেকে চামড়া ঢাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে ◈ ট্রাম্পের 'পাগলামি' ও বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকার একাকীত্ব 

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২৬, ০৬:১২ বিকাল
আপডেট : ২৫ মে, ২০২৬, ০৭:২৭ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এআই ট্রাফিক মামলার নামে ভুয়া এসএমএস

যানবাহনের মালিকদের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে পাঠানো হচ্ছে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ভুয়া এসএমএস। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে গ্রাহকদের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য।

রাজধানীতে সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হয়ে সেই তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট চালকের মোবাইল নম্বরে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রতারক চক্র সাধারণ নাগরিকদের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এআই মামলার নামে একটি এসএমএসের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট নিয়ে এই প্রতারণা চলছে।

এসএমএস পাঠিয়ে বলা হচ্ছে গ্রাহকের নামে এআই মামলা হয়েছে, দেওয়া হচ্ছে মামলা নম্বর এবং বিআরটিএর লোগো সংবলিত একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা। সেখানে গিয়ে করতে হবে মামলার জরিমানা পরিশোধ।

রোববার (২৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী এই এসএমএসের সত্যতার বিষয়ে জানতে চেয়ে স্ট্যাটাস দেন। এমনকি ট্রাফিক অ্যালার্ট গ্রুপে পরিচয় গোপন করেও একজন নাগরিক পোস্ট করেছেন। সেখানে বেশ কয়েকজন গ্রাহক এমন বার্তা পেয়েছেন বলে কমেন্টও করেছেন।

এছাড়া অনেকেই নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে পোস্ট করেও এই এসএমএসের কথা জানতে চেয়েছেন। তাদের মধ্যেই একজন রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা ইয়াসিন পাটোয়ারী। প্রতারকের পাঠানো এসএমএসের ছবিসহ তিনি তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘আমার ফোনে একটি এসএমএস এসেছে। এটা কি সত্যিকারের এআই মামলা, নাকি কোনো স্ক্যাম?’ আর সেই ছবিটি তিনি সংযুক্ত করেছেন সেখানে লেখা আছে “[বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ] জরিমানা পরিশোধ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি। জরিমানা নম্বর: ২০২৬-বিডি-৫৬১২৩০৪৩টি। তারিখ: ২৪ মে, ২০২৬। স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (ক্যামেরা নম্বর: টিআর-৭৭২) অনুযায়ী, আপনার যানবাহনটি নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করা না হলে, আপনার লঙ্ঘনের রেকর্ড জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং আপনি আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হবেন। অনুগ্রহ করে ২৪ মে মধ্যরাতের পূর্বে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধ করুন: https://bspbrtcar-govbd.online। এই বার্তাটি পুনরায় খুলতে ‘১’ চাপুন, লঙ্ঘনের রেকর্ড দেখুন এবং ক্যামেরার ছবি ও জিপিএস অবস্থানের তথ্য যাচাই করুন।”

এ বিষয়ে ইয়াসিন কালবেলাকে বলেন, ‘সরকার কীভাবে জরিমানা নেবে, পদ্ধতিটা কীভাবে হবে— সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য গ্রাহককে না জানিয়ে এই প্রকল্প চালু করায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চালকরা। আমাদের জানানো উচিত ছিল কীভাবে মামলা হবে, কীভাবে জরিমানা দেওয়া হবে, অথবা মামলাটি আসলেই হলো কি-না। সে বিষয়গুলো সম্পর্কে আমাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া প্রয়োজন ছিল। সরকার এই উদ্যোগ না নেওয়ায় একটি অসাধু চক্র এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে।’

এই এসএমএসের সত্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তানভীর হাসান জোহা কালবেলাকে বলেন, ‘এই মেসেজে থাকা কিছু বিষয় বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। যার মধ্যে বিদেশি নম্বর (+63) থেকে বার্তা এসেছে, যা বাংলাদেশের সরকারি ট্রাফিক বা জরিমানা ব্যবস্থার স্বাভাবিক যোগাযোগ পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এছাড়া ওয়েবসাইট ‘.gov.bd’-এর পরিবর্তে ‘.online/.icu’ ডোমেইন ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল সেবা সাধারণত gov.bd ডোমেইনের অধীনে পরিচালিত হয়। ‘govbd’ শব্দটি ডোমেইনে থাকলেই সেটি সরকারি হয় না।

তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, ‘প্রতারকদের পাঠানো ওই মেসেজে, ভয়ভীতি ও জরুরি চাপ (আরজেন্সি ট্যাকটিক) প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন ‘জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত’, ‘আইনানুগ শাস্তি’ ইত্যাদি। এটি ফিশিং ক্যাম্পেইনের একটি পরিচিত কৌশল, যার মাধ্যমে মানুষকে দ্রুত লিংকে ক্লিক ও পেমেন্টে প্রলুব্ধ করা হয়। এ ছাড়া সাধারণ নাগরিক যদি বিশ্বাস করে পেমেন্ট করেন, তাহলে কার্ড তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য, ওটিপি বা ব্যক্তিগত ডাটা চুরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা নোবেল দে কালবেলাকে বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমি এ বিষয়ে কথা বলেছি। বিআরটিএ থেকে এআই মামলা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে বিআরটিএ এই ধরনের কোনো মামলার পেমেন্টও নিচ্ছে না। কেউ যদি বিআরটিএর নাম ভাঙিয়ে কোনো এসএমএস বা অন্য কোনো পন্থায় এই মামলার কোনো পেমেন্ট নেয়, সেটি স্পষ্টতই প্রতারণা।’

এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ‘এআই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপির পক্ষ থেকে কারও মোবাইলে এখনো কোনো মেসেজ পাঠানো হয়নি। ডাকযোগে বাসার ঠিকানায় মামলার ডকুমেন্ট পাঠানো হচ্ছে। যার গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হবে, তিনি সরাসরি ট্রাফিক বিভাগের অফিসে গিয়ে জরিমানা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করবেন।’

সূত্র: কালবেলা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়