প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত আরো শক্তিশালী করতে তৃণমূলে ‘দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি’ জরুরি

দীপক চৌধুরী: সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় আবারো মনে হয়েছে, দেশকে সম্পদশালী করে তুলতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতির পাশাপাশি শক্তিধর ও নীতিবান জনপ্রতিনিধি দরকার। মানুষ চাইছে, যিনি তৃণমূলে মানুষের কষ্ট বুঝতে পারেন, মানুষকে কাক্সিক্ষত শান্তি দিতে না পারলেও অশান্তি সৃষ্টি করা থেকে নিজে বিরত থাকেন এমন মানুষ দরকার। তৃণমূলে রাজনীতির চেহারা-সৌন্দর্য হতাশ করছে মানুষকে। এর পরিবর্তন জরুরি। খুন-হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ব্যক্তি জেলা -উপজেলার নেতা থাকে কীভাবে? এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় রাজনীতিতে, স্থানীয় প্রশাসনে। বিএনপির স্থানীয় নেতা নিয়ে মানুষের মন্তব্য নয়, কারণ এই দলটির জন্মই হয়েছে ক্যান্টনমেন্টে। কিন্তু পরীক্ষিত দল আওয়ামী লীগের স্থানীয়পর্যায়ের নেতা হবেন মামলামুক্ত, পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি। আলাদা ইমেজ থাকবে। খবর নিয়ে দেখা যাচ্ছে, ইতিমধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী না থাকায় ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ১৯ জেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত ৭৬ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। সত্যিই কী এ রকম সুযোগ! আসলে ইউপি নির্বাচনের সেই উৎসব বা আনন্দঘন পরিবেশ সম্ভবত উঠেই গেলো। স্থানীয় পর্যায়ের এই উৎসব শুধু দলীয় নয়, দলনেতাদেরই নয় সাধারণ মানুষের কাছেও প্রাণবন্ত ছিল। তৃণমূলে রাজনীতির সহিংসতা বা আক্রোশ মানুষ অপছন্দ করলেও কী হচ্ছে সেখানে- উচ্চমহল পর্যন্ত এই খবর নাকি পৌঁছে না। প্রকৃতপক্ষে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী পাওয়া যায় না, এটা বিস্ময়ের। যাকগে দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৯৪৬ জন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৫৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। বাকি ৬৯১ জন বিদ্রোহীই নির্বাচনে রয়ে গেছেন । দলীয়ভাবে ইউপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও এখন পর্যন্ত দলটির ৩১১ জন নেতা-কর্মী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনের মাঠে আছেন। তারা থাকলেন কেনো? শুনেছি, তাদের অনেকেই ভীষণ ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভ দলের ওপর নয়, দলের কতিপয় স্থানীয় উপজেলা, জেলা পর্যায়ের নেতা ও সাংগঠনিক নেতার ওপর। হয়তো সবকথা ঠিক নয়, সব অভিযোগ সত্য নয়, কিছু কিছু তো সত্য। আসলে তৃণমূলকে শক্ত হাতে হ্যান্ডেল করা জরুরি। বিএনপি চলে গেছে নিজেদের ডেরায়, তা যাক। কিন্তু শক্তিশালী আওয়ামী লীগের মেধাবী, যোগ্য ও দক্ষ সাংগঠনিক সম্পাদক দরকার। খুবই খারাপ খবর আসছে তৃণমূল থেকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যারা সাম্প্রদায়িক অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিল তারা কীভাবে ইউপি চেয়ারম্যানের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়? যদিও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়েছে তবুও এ প্রশ্নটি কিন্তু উঠেছে।

এটাই সত্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র কি-না এ প্রশ্নও উঠেছে। ভয়ংকর নানা তথ্য মিলছে পুলিশের হাতে। খুন, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের দায়ে অপরাধীর বিচার হচ্ছে। অতীতে প্রভাব খাটিয়ে নয়তো সত্যকে মিথ্যা তথ্য সাজিয়ে অথবা কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে জামিন পেতো লুটেরা, দুর্নীতিবাজ ও খুনিরা। অতীতে নামকাওয়াস্তে অপরাধ উপস্থাপন করে প্রতিপক্ষকে মামলায় ফাঁসিয়ে মৃত্যুদণ্ডে ঝুলানো হয়। আর এখন মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে । বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি মানুষের সৃষ্টি হওয়া আস্থায় চিড় যেনো না ধরে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জীবনের সিংহভাগ কাটিয়েছেন এমন কর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে অর্থের অজুহাতে। আর্থিক অনিয়ম তো আছেই। কেন্দ্রে এসব খবর পৌঁছেই না। তৃণমূলে ইউপি চেয়ারম্যান হতে আগ্রহী এমন অনেক নির্ভেজাল ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে কৌশলে বাদ দেয়া হচ্ছে। ধমক দেয়া হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে। হয়তো চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তাদের নাম-তালিকা কেন্দ্রে কখনো পৌঁছাবে না। অথচ কাজ হয়নি কিন্তু সরকারি অর্থ খরচ হয়ে গেছে কিংবা কাজ নামমাত্রও হয়নি অথচ অর্থ খরচ হয়ে গেছে- এমন প্রকল্পেরও দায়িত্বে থাকা দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান বা তৃণমূলের ব্যক্তিদের নাম আবারো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসে পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তারাই নাকি মনোনয়ন পাবে! গ্রামগঞ্জে- হাটবাজারে তো তাই শোনা যায়। সুতরাং তৃণমূলে যাতে কোনোরকম অনিয়ম না হতে পারে তা নিশ্চিত করা জরুরি। সাংগঠনিকভাবে এর কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
পরিশেষে বলতে চাই, এখন দেশবিরোধী নানামুখী ষড়যন্ত্র যে হচ্ছে এটা বাঙালি বুঝতে পারে। দেশে-বিদেশে সংঘবদ্ধ চক্রের এই ষড়যন্ত্র। খেয়াল করলে দেখা যায়, মিথ্যাতথ্য বা গুজবকে ইস্যু করে এদেশে ‘উস্কানীমূলক ভিডিও ’, সামাজিক যোগাযোগ বা মোবাইল ফোনে অপপ্রচার করা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে একটি মহল। অথচ এদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক। হাজার বছরের পারস্পরিক ভালোবাসা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে কারা নষ্ট করতে চায় এটি বের করা জরুরি। সম্প্রীতি নষ্টকারীদের গ্রেপ্তার ও কঠিন শাস্তি দরকার। এ বিষয়ে অবশ্যই পুলিশ-র‌্যাব সদস্যদের আন্তরিকতা জরুরি।

স্বীকার করতেই হয় যে, ইস্পাত কঠিন মনোবলে পর্বতসম বাধা ডিঙ্গিয়ে ক্রমেই এগিয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটাও মনে রাখা দরকার, সরকারের অগ্রগতি ও উন্নয়নকে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা গোষ্ঠীস্বার্থে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। যদিও দুর্নীতিবাজ রাঘববোয়াল কিন্তু এখন ছাড় পাচ্ছে না। দুর্নীতিবাজ কারাকর্মকর্তাদের অনেকের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তদন্ত চলছে। বিরাট অর্থবিত্ত নিয়ে যারা একদা ফকফকা দিবালোকেও রাতের অন্ধকার নামিয়ে আনতেন তারা অনেকেই এখন জেলে, কারাবন্দী।

বঙ্গবন্ধুকন্যার শাসনামলকে বিভ্রান্ত করার জন্য নাটক সাজানো হয় এবং তা যতদ্রুত সম্ভব দেশে-বিদেশে প্রচার করা হয়ে থাকে। এই তো কিছু দিন আগেও একটি নাটক মঞ্চস্থ হয়ে গেলো। শেখ হাসিনার সরকার নাকি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। সাংবাদিকতার নীতির বাইরে নানারকম চুরি-চামারি করে গোষ্ঠীস্বার্থ নিয়ে যারা খেলাধুলা করছে তাদের বিষয়ে টুঁ- শব্দটি নেই। সাংবাদিকদের উপকারের লক্ষ্যে যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার দশকোটি টাকা দিয়ে এগিয়ে এলেন এটা কিন্তু আমরা বেমালুম ভুলে গেলাম। সাংবাদিকবান্ধব শেখ হাসিনা সরকারের তীব্র সমালোচনাকারীও কিন্তু এ অনুদান পাচ্ছেন।

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের মনের কথা জানতে পারতেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। আর এ কারণেই স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। অথচ এদেশেরই একদল ঘাতকের হাতে তিনি জীবন দিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে তাঁর সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলেছেন দুর্বারগতিতে।

সরকারের সরলতাকে দুর্বলতা ভেবে একের পর এক চক্রান্ত করে যাচ্ছে একটি মহল। এদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ চায় আর যেনো সুযোগ নিতে না পারে শত্রুরা। উন্নত বিশ্বের সারিতে বাংলাদেশকে পৌঁছে দেওয়ার সংকল্প নিয়েই রাজনীতিতে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। রাজনীতির কঠিন সংগ্রামে এদেশের দরিদ্র মানুষ শেখ হাসিনাকে পাশে পেয়েছে। জনগণের প্রেরণা ছিলো তাঁর মহৎ কাজে। কারণ, তিনি পরীক্ষিত প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

সর্বাধিক পঠিত