প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আবার গুজব, এবার আগুন, রংপুরে

সালেহ্ বিপ্লব, আফরোজা সরকার: [২] পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বাটের হাট নামক এলাকায় রোববার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

[৩] রংপুর জেলা সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানের বরাত দিয়ে প্রথম আলো অনলাইন জানায়, রাত একটায় ঘটনাস্থল থেকে মুঠোফোনে এই কর্মকর্তা বলেন,  “সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবক ফেসবুকে ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দিয়েছেন—এমন গুজবে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত কিছু লোক প্রায় ২০টি বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।”

[৪] ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন  পুলিশ সুপার ও র‌্যাবের কর্মকর্তারা।

[৫]  আরো বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে খবরটি এসেছে। ফেসবুকেও দেশের স্বনামধন্য ব্যক্তিরা এই অগ্নিসংযোগের কথা উল্লেখ করে বিচার চেয়েছেন।

[৪] ঘটনা একশ ভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য পীরগঞ্জ থানায় ফোন করা হয়, কিন্তু ফোন রিসিভড হয়নি।

[৫] এএসপি কামরুজ্জামানকে মুঠোফোনে কল করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন কেটে দেন।

[৬] ভোর পৌণে চারটায় পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসে ফোন করা হলে তারা জানান, হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে কিছু বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে, এই খবর আসার পর রাত ৮টা ৩৯ মিনিটে তারা অগ্নি নির্বাপক ইউনিট পাঠান। পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর থানার ফায়ার সার্ভিসও গাড়ি পাঠিয়েছে।

[৬] রংপুরের অনলাইন পত্রিকা ডিআরবিটিভি লাইভ লিখেছে, ‘‘সামাজিক গণযোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বাটের হাট নামক এলাকায় (১৭ অক্টোবর) রোববার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে হামলাকারীরা ১৫ থেকে ২০টি বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এ বিষয়ে রংপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবক ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দিয়েছেন এমন কথিত অভিযোগের পর রোববার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ওই যুবকের বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেও দূরে ১৫-২০টি বাড়িঘরে আগুন দেয় উত্তেজিতরা ‘’

[৭] ভোর চারটায় আমরা কথা বলেছি ঘটনাস্থল থেকে আসা এক রিপোর্টারের সঙ্গে। তিনি জানান, জেলেপল্লীর এক ছেলে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননা করেছে, এমন একটি খবরে রোববার সন্ধ্যায় ওই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ছোটখাটো মারামারিও হয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বিক্ষুব্ধ মানুষের সংখ্যা। এক পর্যায়ে তারা জেলেপল্লীর বেশ কিছু ঘরে আগুন দেয়। তার হিসেবে, ২০ নয়, আরো বেশি ঘর পুড়েছে।

ছবি: কালের কণ্ঠ অনলাইন, ডিআরবিটিভিলাইভ

সর্বাধিক পঠিত